হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পণ্য খালাসে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। তবে ওই কর্মকর্তারা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে মব তৈরি করে সেই বদলির আদেশ স্থগিত করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৩ জানুয়ারি তাদের বদলির আদেশ দেওয়া হলেও একদিন পরই তা স্থগিত করা হয়। ঘটনাটি বিমানের ভেতরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলেননি।
অভিযোগ ওঠা ওই দুই কর্মকর্তা হলেন বিমানের কমার্শিয়াল সুপারভাইজার কাজী মোহাম্মদ শাহজালাল ও মন্তাছার রহমান। বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগে একই পদে কর্মরত রয়েছেন।
এই দুই কর্মকর্তার বদলির আদেশ এবং তা স্থগিত করার নথির কপি বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে আমদানিকৃত ৪ হাজার ২৩৭ কেজি ফেব্রিক্স কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই জালিয়াতির মাধ্যমে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো থেকে খালাস করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন তা উঠে আসে।
তদন্তে পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে বিমানের এই দুই কর্মকর্তার নাম উঠে আসে। গোয়েন্দারা জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য খালাসের বিষয়ে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত চলাকালেই বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর গত ১৩ জানুয়ারি তৎকালীন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. সাফিকুর রহমানের আদেশে তাদের বদলি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী কাজী মোহাম্মদ শাহজালালকে কক্সবাজার বিমানবন্দর এবং মন্তাছার রহমানকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বদলি করা হয়।
বিমানের একটি সূত্র জানায়, বদলির আদেশের খবর পেয়ে ওই দুই কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের নিয়ে এমডির কক্ষে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তারা হুমকি-ধামকি দিয়ে মব তৈরি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত এমডি ড. সাফিকুর রহমান তাদের বদলির আদেশ স্থগিত করার নির্দেশ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সেদিন তাদের আচরণ ছিল নজিরবিহীন। সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এখনও তারা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাদের ভাষ্য, একজন এমডিকে তার নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে—যা উপস্থিত অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল যে অনেকেই তাদের সামনে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন।
প্রসঙ্গত, কার্গো জালিয়াতির ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এই দুই কর্মকর্তাসহ প্রায় ১০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও এখন পর্যন্ত বিমান কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে বিমানের মুখপাত্র ও জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।