Image description

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ‘মব সৃষ্টি করে’ একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে হরিপুর থানায় মামলাটি করেছেন হরিপুরের মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ।

হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদলের নেতা মোকলেসুর রহমান, মো. ফারুক ও মাসুদ রানাসহ মোট ছয় জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার হরিপুরের মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ বোর্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সভাপতিত্বে শুরু হয়। সেখানে কলেজটির অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদও উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগ বোর্ডে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলী, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিনিধি রেজা হাসান মাহমুদসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় চারজন পুরুষ ও চারজন নারী পরীক্ষার্থী অংশ নেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায়ে তারা ইউএনওকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় জামাল উদ্দিনের নির্দেশে তার সহযোগীরা কলেজটির অধ্যক্ষ ও বোর্ড প্রতিনিধির কাছ থেকে নিয়োগের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেল জামাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ ও নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধি মোতাহারা পারভীনকে টেনেহিঁচড়ে থানার ভেতর থেকে বের করে আনেন। সে সময় তারা মামলা না করতে হুমকি দেন। পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে জামাল ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।

মামলার বিষয়ে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল ইউএনও নিয়োগের জন্য টাকা নিয়েছেন। এটার প্রতিবাদ করতে ছেলেরা সেখানে গিয়েছিল। তখন ইউএনও তাদের পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখান। তারা বিষয়টি জানালে আমি সেখানে যাই। নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। আমার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ওই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।’

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, ‘ইউএনও কার্যালয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন পরবর্তী কার্যক্রম যা করার, তাই করা হবে।’