Image description
৩ লাখ ২৫ হাজার টন তেল ক্রয়ের অনুমোদন

সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় সরকার ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ২৫ হাজার টন পরিশোধিত তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে এ অ্যান্ড এ এনার্জি নামে একটি প্রতিষ্ঠান অনেকটা অর্ধেক মূল্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টন তেল (১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন) সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা প্রতি ব্যারেল তেল মাত্র ৭৫ ডলারে সরবরাহ করবে। এর বাইরে কোনো জাহাজ ভাড়াও লাগবে না।

তবে এ অ্যান্ড এ এনার্জির এই প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি এখন প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেল কিনছে ১৩৫ ডলারের বেশি দামে। সেখানে এত সস্তা তেল কীভাবে দেবে তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ান তেল বিক্রির জন্য এত কম মূল্যে প্রস্তাব দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান। প্রস্তাব অনুমোদন হলেও জ্বালানি বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে সরকার অভিযোগ পেয়েছে। আরও যাচাই-বাচাই করে তাদের কাছ থেকে তেল কেনা হবে। যাতে সরকার কোনো বিপাকে না পড়ে। শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক বিবৃতিতে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শর্ত সাপেক্ষে তুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়ার যেসব তেল ১১ মার্চ থেকে জাহাজে লোডের পর সমুদ্রে আছে, সেগুলোর বিক্রিতে সমস্যা নেই। তবে তা ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে। এতদিন রাশিয়ার তেল ক্রয়ে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে এক জুম মিটিংয়ে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। অপর প্রস্তাবটি পেট্রো গ্যাস লিমিটেডের। তারা ২ লাখ টন পরিশোধিত তেল বিক্রি করবে বিপিসির কাছে। এই তেলের দাম ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক মূল্যে। এর সঙ্গে জাহাজ ভাড়া হিসাবে দিতে হবে প্রতি ব্যারেল ৪ দশমিক ৭২ ডলার। বিপিসি এখন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তেল কিনতে ভাড়া দিচ্ছে প্রায় ৫ ডলার। এই দুই কোম্পানিকে শুক্রবার ক্রয়াদেশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তেল বাংলাদেশে আসবে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সরকার সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় জ্বালানি তেল কিনছে। এ অ্যান্ড এ এনার্জির ব্যাপারে জানা গেছে, জনৈক মোস্তফা কামাল তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে গত সপ্তাহে। এরপর যাচাই-বাছাই করে সেই প্রস্তাব চূড়ান্ত করে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয় বুধবার। বৃহস্পতিবার রাতে সেটি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বিশেষ সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আরও যাচাই-বাছাই করে এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলা দরকার ছিল। তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এই মুহূর্তে তেলের দরকার। আপাতত তাদের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, সরবরাহের আগেই দেখা হবে আসলে তারা কতটুকু সক্ষম।

জানা গেছে, সরকার মার্চের জন্য ডিজেল নিয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হলেও এপ্রিলের ডিজেল ও অকটেন নিয়ে চিন্তিত। কারণ এপ্রিলে ১৬ জাহাজ তেল দরকার হলেও এখনো নিশ্চিত করা গেছে মাত্র ৩টি। অথচ সময় আছে মাত্র ১৫ দিনের মতো। এর মধ্যে ঈদের লম্বা ছুটি শুরু হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, তেল সরবরাহ ঠিক রাখতে ওই বিভাগ ঈদের ছুটিতেও কাজ করবে। এমনকি বিপিসির কোনো কোনো বিভাগ প্রয়োজনে খোলা থাকবে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না থামলে বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদ আসছে। বিশেষ করে ডিজেলের জোগানের ক্ষেত্রে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন ঈদের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরি-বোরো মৌসুমে ডিজেল সরবরাহ। এই মৌসুমে ৪ থেকে ৫ লাখ টনের বেশি ডিজেল লাগে কৃষকদের। সেটি জোগান দিতে না পারলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬৬ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেলের দরকার হয়। এর মধ্যে ডিজেলই লাগে ৪০ লাখ টনের বেশি।