বাগেরহাটের রামপালে নৌ-বাহিনীর বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-বধূসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ যাত্রী। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ৭ জনের। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন- আবদুর রাজ্জাক, তার ছেলে বর সাব্বির, নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, মিতুর বোন লামিয়া, নানী আনোয়ারা বেগম, আন্জুয়ারা বেগম, আরেক ছেলের স্ত্রী পুতুল, পুতুলের ছেলে আলিফ, রাজ্জাকের মেয়ে ঐশি, ঐশির স্বামী সামিউল, ইরান, ইব্রাহিম সানী, মাইক্রোচালক নাঈম এবং অজ্ঞাত একজন। নিহত রাজ্জাক মোংলা উপজেলার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন।
ছোট ছেলে সাব্বিরের বৌ আনতে বুধবার পরিবারের সবাই খুলনার কয়রা উপজেলায় যান। সেখানে রাতযাপন করে বৃহস্পতিবার নতুন বৌ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাজ্জাকের শ্যালক নিসারুল ইসলাম জানান, তার বোন ছাব্বিরের মা ব্যতীত তার ৫ জন ভাগিনা ও তাদের ২ জন স্ত্রী, ভাগিনাদের নাতি-নাতনি ৩ জন এবং পরিবারের প্রধান দুলাভাই আবদুর রাজ্জাক সবাই বৌ আনতে বুধবার খুলনায় যান। এদিকে পরিবারের সবাই নিহতের খবরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন একমাত্র জীবিত নিহত রাজ্জাকের স্ত্রী। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহনাজ মোশাররফ জানান, প্রথমে আমরা একই পরিবারের ৭ জনের লাশ পাই। এর মধ্যে তিনজন নারী। এক বছরের নিচে ২ জন শিশু, ১৩ বছরের একজন শিশু ও ২ জন পুরুষ রয়েছেন। সর্বমোট ১০টি লাশ খুলনা মেডিকেলে আসে। এ ছাড়া গুরুতর আহত আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে রামপাল উপজেলা কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজেশ জানান, সেখানে ৪টি লাশ আছে।
রামপাল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মধ্যে ৪ জনের মরদেহ রামপাল উপজেলা হাসপাতালে রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসে থাকা একই পরিবারের ২ শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও ৭ জনের।