গাইবান্ধায় পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় জুয়া খেলছেন বেশ কয়েক পুলিশ সদস্য। অপরদিকে গোপন রুমে কম বয়সি এক নারীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এক পুলিশ সদস্য। আবার দুই পুলিশ সদস্য মাদক কারবারিকে আটক না করে নিচ্ছেন ঘুষ। গাইবান্ধা সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের এমন চারটি ভিডিও এবং মাদক কারবারির দুটি রেকর্ডিং এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছয়-সাতজন পুলিশ সদস্য একটি বন্ধ রুমে নগদ টাকা দিয়ে তাস খেলছেন। সেখানে সুস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, গাইবান্ধা সদর ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) আকতার ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বুলবুলসহ ৪-৫ জন জুয়া খেলছেন। টেবিলটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তাস আর নগদ অর্থ। কোনো পাশে ৫০০ টাকা, কোনো পাশে ১০০, আবার কোনো পাশে ১০ বা ২০ টাকার নোট।
১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে অস্পষ্ট দেখা যায়, জুয়ার আসরে পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের এটিএসআই আকতার ও সদর থানার এসআই বুলবুলের নেতৃত্বে নতুন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা। তবে বাকিদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, এটি গাইবান্ধা সদর ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের একটি রুমের চিত্র। ভিডিও দুটি ভোটের আগে বা চলাকালীন ধারণ করা বলে দাবি সোর্সের। এখানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও থানা ছাড়াও পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য এবং কর্মকর্তারাও এসে আড্ডা দেন এবং জুয়া খেলার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এখানে নারী নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডও চলে।
১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কম বয়সি এক নারী নিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এটিএসআই আকতার। সিসি ফুটেজে উল্লেখ করা সময় অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৪ সালের ১৩ মে ১১টা ৪৫ মিনিটের।
আরেকটি ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মাদক কারবারিদের আটক না করে তাদের কাছ থেকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এটিএসআই আকতার ও সদর থানার এসআই বুলবুল মাদক ও নগদ অর্থ নিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা বিভিন্ন মাদক সিন্ডিকেট থেকে ৪ হাজার টাকা শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেন। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে মাদক সিন্ডিকেট বলে বিভিন্ন সময় হয়রানি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক মাদক কারবারি বলেন, এটিএসআই আকতারসহ দুজন এসে বিভিন্ন সময় মাদক না থাকলেও টাকা নেন এবং মাদক থাকলে ২০ হাজার টাকা নেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এমন কাজ করেন।
আরেক মাদক কারবারি বলেন, ‘এটি তাদের (পুলিশ কর্মকর্তা) নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড। আমরা অপরাধী, তাই কিছু বলতে পারি না। তবে যারা নিরাপরাধ, তাদেরও হয়রানি করে। ওপরমহলকে জানালে কিছুই হয় না এদের।’
এসব অভিযোগ এবং ভিডিওর বিষয়ে গাইবান্ধা সদর ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের এটিএসআই আকতার ও সদর থানার এসআই বুলবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলে তারা ফোন বন্ধ করে রাখেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর মো. বেলাল বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। বিষয়টি আমি অবগত না।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ভিডিও পেয়েছি, তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।