ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংসদ থেকে ‘ওয়াক আউট’ করেছেন জামায়াতে ইসলামী জোটের সংসদ সদস্যরা।
তবে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করলেও দলীয় ফেসবুক পেজ থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সরাসরি প্রচার করেছে জামায়াত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি অনুযায়ী ভাষণ দিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম)।
এ সময় বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।
সংসদে হট্টগোল, প্রতিবাদ, চিতকারের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি অধিবেশনে প্রবেশ করেন ও স্পিকারের পাশে বসেন। এ সময় সংসদে হইচই করতে থাকেন বিরোধী দলের (জামায়াত ও এনসিপি) সংসদ সদস্যরা। তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সময় চিৎকার-চেঁচামেচি বন্ধ করে সিট থেকে উঠে দাঁড়ান তারা।
এর মধ্যেই বক্তব্য শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। স্পিকার বারবার রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।
এর কিছুক্ষণের মধ্যে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে সংসদ অধিবেশনের এ চিত্র দেখা যায় খোদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। মূল্যস্ফিতী ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়ে তথ্য জানান। কৃষি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে নেবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রপতি।