Image description
ইরানে নতুন নেতা মোজতবা খামেনি, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। এখন টার্গেট করা হচ্ছে জ্বালানি তেলের কেন্দ্রগুলোকে। যুদ্ধের নবম দিন রবিবার মধ্যরাতে তেহরানের তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপোতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। জবাবে গতকাল বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের জ্বালানি তেলের স্থাপনায়ও ইরানি হামলার খবর দিয়েছে একাধিক গণমাধ্যম। এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। অন্যদিকে ইসরায়েলে ইরানের হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫০০। খবর বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা ও ফ্রান্স২৪।

যুদ্ধ এবার তেল নিয়েএদিকে যুদ্ধের শুরুতেই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় নতুন ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করেছে ইরান। আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা সাঈদ খামেনিকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের এই নতুন নেতাকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া। তবে খামেনির নিয়োগ নিয়ে সন্তুষ্ট নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুদ্ধের দশম দিন গতকাল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে নতুন করে হামলা চালিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে গতকাল ভোরে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এতে একজন নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পৃথক হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শরীরে বিস্ফোরকের ধাতব টুকরার গুরুতর আঘাত রয়েছে। চলমান যুদ্ধে ইরানি হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত ও ১ হাজার ৯২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার পর তেল শোধনাগারটির দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না। এ ছাড়াও রাজধানী মানামার কাছে ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চারটি ড্রোন দেশটির একটি বৃহত্তম তেল ক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন মরু এলাকায় ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

এ ছাড়া ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানবন্দরের কাছের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিশানা করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে পুলিশ সূত্র বলছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই রকেট ও ড্রোন প্রতিরোধ করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন সরকারের জরুরি নয় এমন কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।  অন্যদিকে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি বড় আওয়াজ শোনা গেছে।

এর আগে গতকাল ভোরে নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নাম ঘোষণা করে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় সন্তান মোজতবা খামেনিকে এই পদে নির্বাচিত করা হয়। এখন থেকে তিনি ইরানকে নেতৃত্ব দেবেন। ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরস (আইআরজিসি), সশস্ত্র বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়াও নতুন নেতার প্রতি সমর্থন জানাতে তেহরানের রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত হবে : ট্রাম্প : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ হবে সেই সিদ্ধান্তটি হবে যৌথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তিনি মিলে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

টাইমস অব ইসরায়েলকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁরা দুজনে এ বিষয়ে কথা বলছেন এবং তিনি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা চালায়নি ইরান : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, তাঁর দেশ তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানের ওপর হামলা চালায়নি। গত সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস এবং আজারবাইজানে হামলার যে খবর এসেছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এসব দেশের বিরুদ্ধে ইরানি ভূখন্ড থেকে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হয়নি। হামলার এই খবরগুলোকে সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।

যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতায় সৌদি সফরে চীনের বিশেষ দূত : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার লক্ষ্যে সৌদি আরব সফর করছেন চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবিরাম চেষ্টা চালাতে রিয়াদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।