ইরানের সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন খবর প্রকাশের পর ইরান বলেছে তারাও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি এ কথা বলেছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, ইরান একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তেহরান এমন উন্নত অস্ত্র তৈরি করতে চলেছে, যা এখনও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নায়েনি বলেন, আসন্ন আক্রমণের নতুন ঢেউয়ে ইরানের শত্রুদের ‘বেদনাদায়ক আঘাত’ আশা করা উচিত। তিনি বলেন, ‘ইরানের নতুন উদ্যোগ এবং অস্ত্র আসার পথে আছে, যা এখনও বৃহৎ পরিসরে মোতায়েন করা হয়নি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরান এখন আরও ভালোভাবে প্রস্তুত। তিনি চলমান সামরিক সংঘাতকে ‘পবিত্র এবং বৈধ যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এই ঘোষণা দেওয়ার সময়ই ইরান তেল আবিবের দিকে প্রথম খায়বার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
খবরে বলা হয়, পেন্টাগন গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াচ্ছে এবং সামরিক পরিকল্পনা এখন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রসারিত করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ফ্লোরিডার টাম্পায় অতিরিক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা পাঠানোর অনুরোধ করেছে, যা কমপক্ষে ১০০ দিন এবং সম্ভবত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সাহায্য করবে।
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বড় পদক্ষেপ। এর মানে, যে সামরিক অভিযান তারা দেখাচ্ছে তার চেয়ে অনেক দীর্ঘ সময়ের জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অভিযান চার-পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, তবে এটি তার চেয়ে বেশি সময়ও চলতে পারে।