Image description

দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় শেষ পর্যন্ত খোদ মার্কিন বাহিনীর ওপরই পড়তে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন এই বর্বরোচিত হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এদিন মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে মুহূর্তেই তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

 

জেনেভায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি জানিয়েছেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের প্রায় সবাই শিক্ষার্থী।

 

রয়টার্স দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার জোরাল প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় চূড়ান্ত কোনো ফলাফলে পৌঁছানো হয়নি এবং বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও নিহতদের স্মরণে চলতি সপ্তাহে ইরানে এক বিশাল রাষ্ট্রীয় শোক ও গণ-জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শয়ে শয়ে কফিনের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের স্বজনরা। তেহরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, এটি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুবা ইসরায়েলের সুপরিকল্পিত হামলা।

 

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী কোনো স্কুল, হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য। যদি তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের দায় প্রমাণিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে দেশটিকে কঠিন জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হতে পারে।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে স্কুলে হামলার একটি ছবি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই হামলায় নিরীহ শিশুরা নিহত হয়েছে এবং স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়েছে। এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ঘটনাটিকে প্রকাশ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।