Image description

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থলপথে হামলা চালায়, সেটা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত তেহরান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধে ইরান যুদ্ধবিরতি চায়নি এবং এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত কোনও পক্ষই প্রকৃত বিজয়ী হবে না। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড

 

 

আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান চালায়, তবে সেটি মোকাবিলার জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়— যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল আক্রমণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না। জবাবে আরাগচি বলেন, ইরান সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

 

তিনি বলেন, ‘না, আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি’। তার দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং এমন কোনও পদক্ষেপ নিলে তা ওয়াশিংটনের জন্য ‘বড় ধরনের বিপর্যয়’ হয়ে দাঁড়াবে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার কয়েকদিন পর তার এই মন্তব্য সামনে আসলো। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

 

 

এদিকে সংঘাত বাড়লেও ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য কোনও অনুরোধ করেনি বলে জানিয়েছেন আরাগচি। তিনি গত বছরের ইসরায়েলের সঙ্গে স্বল্প সময়ের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেসময়ও তেহরান যুদ্ধবিরতি চায়নি।

 

 

আরাগচি বলেন, ‘গতবার ইসরায়েলই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল’। তার মতে, বর্তমান সংঘাতে ইরানের লক্ষ্য কেবল দেশের বিরুদ্ধে চালানো ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের’ প্রতিরোধ করা। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে কোনও বিজয়ী নেই। প্রতিরোধ করতে পারাই আমাদের জয়।’

 

 

এছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, ওই হামলায় ১৭১ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে।

 

 

আরাগচি বলেন, ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা— এই হামলা কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেই চালানো সম্ভব। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

 

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত করছি।’

 

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।