ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর কাছে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তেহরান কোনো অস্ত্র সহায়তা চায়নি বলে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক প্রতিবেদেন জানিয়েছে আলজাজিরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত বছর দুই দেশ ২০ বছরের কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটম ইরানের বুশেহরে পারমাণবিক পাওয়ার প্ল্যান্ট ইউনিটে দুটি নতুন পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণ করছে। একই সময়ে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘এ পর্যন্ত ইরান রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বা অন্য কোনো সামরিক সহায়তা চায়নি এবং রাশিয়ার অবস্থান আগের মতোই রয়েছে।’
এর আগে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে ইরানে সমন্বিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে এই দুই দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে ইরানের। যদিও তেহরান দাবি করছে, পরমাণু শক্তি অর্জন তাদের অধিকার এবং তারা তা শান্তিপূর্ণভাবে করছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য।
কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের দাবি, ইরান পরমাণু শক্তি অর্জন করলে ‘বিশ্ব মানবতার জন্য হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে। তাই দেশটিকে রুখতে তারা হামলা চালিয়েছে।
এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য গত বছর থেকে কয়েক ধাপে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার মধ্যে গত বছরের জুনে ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল। সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এবারও একই পথে হেঁটে তেহরানে হামলা চালিয়েছে মিত্র দুই দেশ।