পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ঘিরে সহিংস বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মার্কিন মেরিন সদস্যরা গুলি চালিয়েছিল বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বার্তাসংস্থা রয়টার্স দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, কনস্যুলেটের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংঘর্ষ বাধে।
হতাহত ও গুলির উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা
বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ১০ জন নিহত হন। তবে কার গুলিতে তারা নিহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেরিন সদস্যরা গুলি ছুড়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেই গুলিতে কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত নন তারা। এছাড়া বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিন্ধ প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী’ গুলি চালিয়েছে। তবে তিনি কোন বাহিনী গুলি চালিয়েছে তা নির্দিষ্ট করেননি।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (২ মার্চ) ভোরের আগে উত্তরাঞ্চলের গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিত, স্কারদু ও শিগার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে সাতজন গিলগিতে প্রাণ হারান। অপরদিকে একজন চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্কারদুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া দেশটির বন্দরনগরী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে ১০ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হন। রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে। গত রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও বিভিন্ন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
শীর্ষনিউজ