Image description

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা আজ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এ হামলা এখন বহুমুখী রূপ ধারণ করেছে। ইরান পাল্টা আক্রমণ করেছে ইসরায়েলে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, বাহারাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালিয়েছে দেশটি। খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে হিজবুল্লাহও  হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে। ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র-সংযুক্ত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রথম দফার এই হামলা-পাল্টা হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি হত্যাকাণ্ডকে ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে নিয়েছে। তাই ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে চালিয়েছিল, তার তুলনায় এবার ইরান আরও শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ও পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

গতকাল রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, খামেনি ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া দেশের ‘দায়িত্ব এবং বৈধ অধিকার’। তবে ইরান কীভাবে সেই প্রতিশোধ নিচ্ছে? এই প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র।

দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের যুদ্ধ ও সংকেত প্রদানের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হলো তার ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারগুলোর একটি, যেখানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা আধুনিক বিমানবাহিনী না থাকলেও তেহরানকে দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা দেয়। 

পশ্চিমা সরকারগুলো দাবি করে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বহনের মাধ্যম হতে পারে। দেশটির দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ২০০০ কিলোমিটার থেকে ২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। অর্থাৎ এগুলো ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং বিস্তৃত অঞ্চলের বহু স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম।

স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার নিকটবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া এগুলো দ্রুত আঞ্চলিক হামলা করতে সক্ষম। এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে আছে ফাতেহ সিরিজ, জুলফিকার, কিয়াম-১ এবং পুরোনো শাহাব-১/২ ক্ষেপণাস্ত্র। 

২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১০০ এর বেশি মার্কিন সেনা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন।

মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
মধ্যম-পাল্লার এসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হামলা চালাতে সক্ষম। এই সিরিজে পুরাতন নকশার মধ্যে রয়েছে, শাহাব-৩, ইমাদ, ঘাদর-১, খোররামশাহর সিরিজ এবং সেজ্জিল। নতুন নকশার মধ্যে রয়েছে খেইবার শেকান ও হাজ কাসেম।

এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সেজ্জিল। এটি কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যবস্থা, যা সাধারণত তরল জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়। মধ্যম পাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কারণে ইসরায়েল এবং কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ইরান হামলা করতে সক্ষম হয়েছে।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিচুতে উড়ে এবং একে ট্র্যাক করাও তুলনামূলকভাবে কঠিন। যখন ড্রোন বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে একযোগে এগুলো নিক্ষেপ করা হয় তখন শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়ে যায়। ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে ভূমি-আক্রমণ ও জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সৌমার, ইয়া-আলি, কুদস সিরিজ, হোভেইজেহ, পাভেহ এবং রা’দ রয়েছে। 

এসব ক্ষেপনাস্ত্র প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আক্রমণ করতে সক্ষম। ইরানের আরেকটি অন্যতম আস্ত্র হলো এর বিশাল ড্রোন ভাণ্ডার। ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ধীরগতির হলেও এগুলো সস্তা এবং একসাথে বিপুল পরিমাণ নিক্ষেপ করা যায়। ধারাবাহিকভাবে এসব ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্লান্ত বা বিপর্যস্ত করে দেওয়া যায়।