Image description

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সহযোগিতা ছিল বলে জানিয়েছে অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

 

রোববার (১ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়।

 

সেই তথ্যের মধ্যে একটি ছিল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান। খামেনির অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর হামলার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে ইসরায়েল। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো হামলায়ই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

 

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত বছর থেকেই খামেনির অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণ করছিল সংস্থাটি। সময়ের সঙ্গে তার অবস্থান ও রুটিন সম্পর্কে স্পষ্ট এবং আরও নির্ভুল ধারণা তৈরি হয় তাদের।

 

শেষ মুহূর্তে তারা জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে এবং খামেনিসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্য পাওয়ার পরই হামলার নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন গোয়েন্দা তথ্যের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতেই হামলার সময় এগিয়ে আনা হয়।

 

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির অবস্থানের সুস্পষ্ট তথ্য হামলাকারী দেশ দুটির সামনে একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি করে। কেননা, তাদের মূল লক্ষ্যই ছিল খামেনিকে হত্যা করা। হামলার প্রথম দিনেই খামেনিকে হত্যার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, হামলার আগে দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছিল। একই সঙ্গে, যুদ্ধপরিস্থিতির স্পষ্ট ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে ‘খুবই নির্ভুল তথ্য’ দিয়েছে সিআইএ। সংবেদনশীল সামরিক বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি এসব তথ্য দিয়েছেন। পরে এর সঙ্গে নিজেদের কাছে থাকা তথ্য মিলিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।

 

শুরুতে পরিকল্পনা ছিল, রাতের অন্ধকারে ইরানে হামলা চালানো হবে। তবে শনিবার সকালে খামেনি বৈঠকে বসবেন, এমন তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তারা আগেই জানতে পেরেছিল, বৈঠকটি যে কমপ্লেক্সে হচ্ছে, সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে। এমনকি বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকবেন, সে বিষয়েও ধারণা ছিল তাদের।

 

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে হামলা চালানো শুরু হয়। প্রথমদিকে বিমানের সংখ্যা কম হলেও সেগুলো রিকল্পিত ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত ছিল। বিমানগুলো উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর, তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে কমপ্লেক্সে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। হামলার সময় জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি ভবনে ছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের একটি ভবনে।

 

অভিযানে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে ‘সফল’ এ অভিযানটি দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যেরই ফল। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় আছেন।’ এমনকি তারা চাইলে তাকে হত্যা করতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

 

গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তার গতিবিধি অনুসরণ করা তাদের জন্য আরও সহজ হয়। এরপর থেকে ইরানি নেতৃত্বের যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কার্যকলাপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আরও সমৃদ্ধ হতে থাকে।

 

এমনকি ইরানের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য ছিল সিআইএর কাছে। খামেনির অবস্থান করা কমপ্লেক্সে হামলার পর যেসব স্থানে দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছিলেন, বেছে বেছে সেখানেও হামলা চালানো হয়। তবে সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বেঁচে গেলেও, হামলায় ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ‘দ্য সিআইএ হেল্পড পিনপয়েন্ট আ গ্যাদারিং অফ ইরানিয়ান লিডারস, দেন ইসরায়েল স্ট্রাক’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ শাখাওয়াত হুসাইন।