Image description
 

ভারতের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে তিনি রাজ্যের শাসকদল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন। ভুয়া ভোটার, অবৈধ অনুপ্রবেশ, তোষণমূলক রাজনীতি, কর্মসংস্থান সংকট এবং নারী নিরাপত্তা ইস্যু তুলে ধরে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়ে আশ্বাসও দিয়েছেন মোদি।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, গৃহ সম্পর্ক অভিযান কর্মসূচির আওতায় এই চিঠি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে আরম্ভ হওয়া এ প্রচারাভিযানে দলীয় কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর লেখা খোলা চিঠি বিতরণ করা হচ্ছে।

চিঠির শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতি সরাসরি সম্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, আসন্ন নির্বাচন আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। 

ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গ দেশীয় অর্থনীতি ও শিল্পে অগ্রণী ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনে অপশাসন ও তোষণমূলক রাজনীতির কারণে রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে।

 

চিঠিতে কর্মসংস্থানের অভাবের অভিযোগ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদি। তিনি উল্লেখ করেছেন, কাজের সুযোগ না থাকায় যুবসমাজ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। ভারী শিল্পের অভাব ও সরকারি স্থায়ী চাকরির সংকটও বিরাজমান। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে আসছে। 

নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান। নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার উল্লেখ তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের মা-বোনরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

ভুয়া ভোটার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মোদি। তার দাবি, সোনার বাংলা আজ ভুয়া ভোটারের দাপটে এবং নৈরাজ্যের অন্ধকারে নিমজ্জিত। 

তিনি বলেন, সমগ্র ভারত পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। বিজেপি সুযোগ পেলে ধর্মীয় শরণার্থীরা সিএএ এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটব্যাংকের দিকে নজর রেখেছেন মোদি। খোলা চিঠিতে বাঙালি মনীষীদের নামও উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান। 

তিনি স্বামী বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা স্মরণ করেন। তাদের আদর্শের বাংলাকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অপশাসন থেকে মুক্ত একটি ভয়শূন্য সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই বিজেপি এগোতে চায়। 

সম্প্রতি বাঙালি মনীষীদের নামের সম্বোধন ঘিরে মোদিকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি আবার চিঠিতে বাঙালির গর্বের ব্যক্তিত্বদের উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর মাধ্যমে বাঙালি আবেগের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠিকে বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরাসরি রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। 

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এই চিঠি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল প্রধানমন্ত্রীর খোলা চিঠি।