ফিলিস্তিনিরা মালিকানা প্রমাণ করতে না পারলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে দাবি করার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইসরায়েল সরকার।
তাদের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ও ‘কার্যত সংযুক্তিকরণ’ এর অভিযোগ উঠেছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
রোববার ইসরায়েলি গণমাধ্যম কান জানায়, কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ প্রস্তাব পেশ করেন।
স্মোতরিচ বলেছেন, “এ পদক্ষেপ আমাদের সব জমি নিয়ন্ত্রণের জন্য বসতি বিপ্লব।”
লেভিন এটিকে ‘সব অংশের ওপর ইসরায়েলি সরকারের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার’ প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ বলে বর্ণনা করেছেন।
আল জাজিরা লিখেছে, এই সিদ্ধান্ত ‘জমির মালিকানা নিষ্পত্তি’ প্রক্রিয়া ফের শুরু করার পথ প্রশস্ত করল, যা ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করার পর থেকে স্থবির হয়ে ছিল।
এর অর্থ কোনো একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে ইসরায়েল যখন ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করবে, ওই ভূমির মালিকানার দাবিদারকে অবশ্যই নথিপত্র দাখিল করতে হবে। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে চলা দখলদারিত্বের কারণে ফিলিস্তিনিদের মালিকান প্রমাণের পক্ষে বাধা খুব বেশি। ফলে এই পদক্ষেপ হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের প্রশাসন এক বিবৃতিতে ইসরায়েল সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে ‘উত্তেজনার তীব্রতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক আইনে সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ যা ‘কার্যত সংযুক্তিকরণ’ বলে বর্ণনা করেছে।
তারা বিশ্ব সম্প্রদায়কে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও ইসরায়েলের এ পদক্ষেপের নিন্দা করেছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমিগুলোকে তথাকথিত ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ হিসেবে নিবন্ধিত করে চুরি ও ইহুদিকরণ করা হচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছে তারা।
হামাস আরও বলেছে, “এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন যা ভূমিতে জোরপূর্বক বসতিস্থাপন ও ইহুদিকরণ চাপিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।”
তারা অনুমোদনটিকে ‘একটি অবৈধ দখলদার শক্তির জারি করা একটি অকার্যকর ও বাতিল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ গভীর করার সর্বশেষ পদক্ষেপ। সম্প্রতি ইসরায়েল পশ্চিম তীরের অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোতে ব্যাপকভাবে নির্মাণকাজ সম্প্রসারিত করেছে, এসব বসতিগুলোকে বৈধতা দিয়েছে এবং অঞ্চলটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে তাদের আমলাতান্ত্রিক নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
ইসরায়েল সরকারের সর্বশেষ এ পদক্ষেপ অধিকৃত পশ্চিম তীরের ‘সি’ নামে পরিচিত এলাকায় কার্যকর হবে। ১৯৯০ সালে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরকে যে তিনটি এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছিল এটি তার একটি। সি এলাকাটি পুরোপুরি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে।
হিসাব অনুযায়ী, এই এলাকাটিতে তিন লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করে। আর আশপাশের গ্রামগুলোতে থাকা এর চেয়েও বেশি ফিলিস্তিনি সি এলাকার কৃষি ও চারণভূমিগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও এটি ব্যায়বহুল হওয়ার কারণে এই এলাকার অধিকাংশ ফিলিস্তিনি নিজেদের জমির নিবন্ধন করাতে পারেননি।