অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক হয়েছে গতকাল রোববার। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত-সমালোচিত দেড় বছরের শাসনকাল। উপদেষ্টারা জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন, আর ফিরবেনও একই গাড়িতে। তবে তখন আর সেই গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে না।
কাগজপত্রে দেড় দিন কর্মদিবস থাকলেও গতকালই মূলত তাঁরা উপদেষ্টা হিসেবে শেষ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকে যোগ দেওয়া ছাড়াও অনেকেই সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে গেছেন, মতবিনিময় করেছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ কেউ আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস থেকে বিদায় নেবেন। উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে কে কী করবেন, সেই প্রস্তুতিও আগে থেকে শুরু করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিলিয়ে আছেন চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন।
ওনার (অধ্যাপক ইউনূস) ডিকশনারিতে রিটায়ার্ড বলতে কিছু নেই। উনি হয়তোবা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর ফিরে এসে দেখবেন নতুন একটা কাজ নিয়ে ভাবছেন, যুক্ত হয়েছেন।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম
অধ্যাপক ইউনূস কী করবেন
উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক শেষে গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে কী করবেন?
জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ওনার (অধ্যাপক ইউনূস) ডিকশনারিতে রিটায়ার্ড বলতে কিছু নেই। উনি হয়তোবা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর ফিরে এসে দেখবেন নতুন একটা কাজ নিয়ে ভাবছেন, যুক্ত হয়েছেন। উনি আগে যে কাজগুলো করতেন, সেগুলো করবেন। সামাজিক ব্যবসা নিয়ে সারা বিশ্বে কথা বলেন। ক্ষুদ্রঋণ ও “থ্রি জিরো” ভিশন নিয়ে কথা বলেন। দারিদ্র্যকে কীভাবে কমানো যায়, সেই কাজ তিনি এখন পর্যন্ত করছেন, আগামী দিনগুলোতেও করবেন। পরিবেশ নিয়েও কাজ আছে।’
অধ্যাপক আসিফ নজরুল গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আবার আগের পেশায়, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। এ ছাড়া মৌলিক বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করবেন তিনি।

অন্য উপদেষ্টারা কী করবেন
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে অফিস করেন। এ সময় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনিও কি নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন? জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আবার আগের পেশায়, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। এ ছাড়া মৌলিক বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করবেন তিনি।

আলী ইমাম মজুমদার গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। তিনি আগেই প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষে তিনি আগের মতোই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি আগেই জানিয়েছেন ‘আপাতত কিছুদিন’ বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রমজানের পর আবার লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন তিনি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গতকালও সচিবালয়ে অফিস করেছেন। দায়িত্ব শেষে তিনি আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আবার বেলায় যোগ দেবেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি আগেই জানিয়েছেন ‘আপাতত কিছুদিন’ বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান।

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ব্রতীতে ফিরে যাবেন এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করবেন। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যুক্ত নারীদের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।
ফরেন সার্ভিস একাডেমির সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘উপদেষ্টা যাঁরা তাঁরা শপথের (নতুন মন্ত্রিসভার) দিন থাকবেন, তাঁরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং শপথের দিন তাঁরা পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। যখন শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, আসার সময় ওই গাড়ি তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু পতাকা থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা সবাই দেশেই আছেন, তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ অ্যাফোর্ট দেবেন।’