চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল আরও জোরদার করছে। এর ফলে সামরিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬’ প্রকাশিত হয়েছে। ৬০টিরও বেশি সূচকের সামরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স জানিয়েছে, ০.০০০-এর যত কাছাকাছি স্কোর হবে, সেটি তত শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই র্যাঙ্কিং তৈরি করার সময় সামরিক সরঞ্জাম, সৈন্য সংখ্যা, আর্থিক অবস্থা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদসহ ৬০টিরও বেশি উপাদান বিবেচনা করা হয়।
সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ০.০৭৪১ স্কোর নিয়ে টানা ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির অবস্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া (০.০৭৯১) ও চীন (০.০৯১৯)।
ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থেকে শীর্ষ পাঁচে জায়গা ধরে রেখেছে, যা আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।
ফ্রান্স ২০২৪ সালে ১১তম ও ২০২৫ সালে সপ্তম হওয়ার পর ২০২৬ সালে উঠে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে। জাপান এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ধীরে ধীরে পিছিয়ে গিয়ে ২০২৬ সালে অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে, যা দুই বছর আগে ষষ্ঠ ছিল। অন্যদিকে ০.২২১১ স্কোর নিয়ে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে ইতালি।
এছাড়া উল্লেখ্যযোগ্য আরও কয়েকটি দেশ হলো পাকিস্তান ২০২৫ সালে ১২তম স্থানে থাকলেও ২০২৬ সালে ০.২৬২৬ স্কোর নিয়ে ১৪তম স্থানে অবস্থান করছে। তালিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে জার্মানি। দেশটি ২০২৪ সালে ১৯তম স্থান থেকে উঠে ২০২৬ সালে ১২তম স্থানে উঠে এসেছে।
এছাড়া তালিকার ১১তম স্থানে ব্রাজিল, ১৩তম স্থানে ইন্দোনেশিয়া, ১৫তম স্থানে ইসরাইল, ১৬তম স্থানে ইরান, ১৭তম স্থানে অস্ট্রেলিয়া, ১৮তম স্থানে স্পেন, ১৯তম স্থানে মিশর ও ২০তম স্থানে ইউক্রেন। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম স্থানে।