যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে লর্ড ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। এ ঘটনা তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনার সংশ্লিষ্টতার জেরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন। লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ইস্যুতে পদ ছাড়লেন মরগান।
এর আগে বিতর্কের মুখে শুরুতে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে লেবার পার্টির সদস্যপদ ছাড়েন তিনি। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের শীর্ষ এই সহযোগী বলেন, ভালোভাবে চিন্তা করার পর আমি সরকারের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। তিনি আমাদের দল, আমাদের দেশ ও রাজনীতির ওপর আস্থার ক্ষতি করেছেন। মরগান আরও বলেন, ‘এই নিয়োগের (লর্ড ম্যান্ডেলসনের) বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। এই পরামর্শের পুরো দায় আমি নিচ্ছি।’
মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এপস্টিনের নতুন নথি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যেও তুমুল শোরগোল শুরু হয়। লেবার পার্টির আইনপ্রণেতারা লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত করার জন্য মরগানকে দায়ী করে, তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। মরগানের বয়স ৪৮ বছর। তিনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের আশ্রয়দাতা ও বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লেবার পার্টির কিছু আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক বিরোধীদের অভিযোগ, রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সময় লর্ড ম্যান্ডেলসনের অতীতের কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে যাচাই করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।
তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন, মরগান ম্যাকসুইনির সঙ্গে কাজ করাটা ‘সম্মানের’ বিষয়। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টিনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে তিনটি পৃথক লেনদেনে ২৫ হাজার ডলার করে সব মিলিয়ে ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছিলেন এপস্টিন। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের প্রশাসনে মন্ত্রী ছিলেন লর্ড ম্যান্ডেলসন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য ছিলেন।