Image description
 

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ওপর সদ্য মেয়াদোত্তীর্ণ সীমা স্বেচ্ছায় বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব করেছে রাশিয়া। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া এই প্রস্তাব নাকচ করে ট্রাম্প নতুন একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, পুরোনো ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খারাপভাবে আলোচিত’ ছিল এবং সেটি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। তিনি বলেন, পুরোনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে উভয় দেশের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি নতুন, আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা উচিত।

 

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি নতুন চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চান। তবে বেইজিং এ বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।

 

নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর আর কোনো কার্যকর সীমা রইল না। এতে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে।

 

গত বছর পুতিন বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলে রাশিয়া আরও এক বছর চুক্তির শর্ত মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, এই চুক্তি রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে আরও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সক্ষমতা সীমিত করছে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় রাশিয়া দুঃখ প্রকাশ করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পারমাণবিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে রাশিয়া ‘দায়িত্বশীল ও সতর্ক’ নীতি অনুসরণ করবে। তবে জাতীয় স্বার্থই সেখানে প্রধান বিবেচ্য হবে।

এদিকে আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি শিহাব রাত্তানসি জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আবুধাবিতে থাকা মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিদল ছয় মাসের জন্য নিউ স্টার্ট চুক্তি বাড়ানোর বিষয়েও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছে। তবে চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে আর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে ইউক্রেনকে পশ্চিমা সহায়তার জবাবে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দেয়।

উল্লেখ্য, প্রথম স্টার্ট চুক্তি ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান মোতায়েনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভ্লাদিমির পুতিনের সমঝোতায় চুক্তির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।