Image description
 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে তেহরানের নেতৃত্ব আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ওয়াশিংটনে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এক ব্যক্তিগত ব্রিফিংয়ে এমন সতর্কতার কথা বলেছেন। শুক্রবার অ্যাক্সিওস একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালিদ বিন সালমান—যিনি কেবিএস নামে পরিচিত এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ—ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনার মধ্যে এই মন্তব্য করেন।

 
 

অ্যাক্সিওস বলেছে, এ মন্তব্যগুলো সৌদি আরবের প্রকাশ্য অবস্থানের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন বার্তা বহন করছে। কারণ প্রকাশ্যে রিয়াদ সংযমের ওপর জোর দিয়েছে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তিন সপ্তাহ আগে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে অনুরোধ করেছিলেন। বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে দেওয়া ওই সতর্কতাই নাকি সম্ভাব্য হামলা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

 

উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার প্রেক্ষাপটে আলোচনার জন্য খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটন সফরে যান। ট্রাম্প এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিলেও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং কূটনীতিও বিকল্প হিসেবে রয়েছে।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো গুরুতর সরাসরি আলোচনা নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে অনিচ্ছুক বলেই মনে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন।

 

সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের ওপর মার্কিন হামলার সম্ভাবনা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পেয়েই খালিদ বিন সালমান বৈঠক ছেড়ে চলে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞ এবং ইহুদি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে সৌদি মন্ত্রী বলেন, কয়েক সপ্তাহের হুমকির পরেও সামরিকভাবে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে তা তেহরানের “শাসনকে সাহসী” করবে। একই সাথে তিনি আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন।

 

তবে প্রকাশ্যে সৌদি আরব সতর্ক সুর বজায় রেখেছে। তারা ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর অগ্রাধিকারের কথা বলছে। পাশাপাশি রিয়াদ জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য তারা নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা এখন এক ধরনের দ্বিধার মধ্যে আছেন। একদিকে তারা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন হামলা আঞ্চলিকভাবে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে তাদের ভয়, সংযম দেখালে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।