Image description

পেট চালাতে পিৎজা ডেলিভারির কাজ করেন তরুণ। রাস্তায় তাঁকে দেখে তাচ্ছিল্য করতে দ্বিধা করলেন না স্কুলের বান্ধবী। এত পড়াশোনা করে কী লাভ হয়েছে, হাসতে হাসতে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সে ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সমাজমাধ্যমে হইচইও ফেলেছে। যদিও সে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ঘটনাটি কোথায় এবং কবে ঘটেছে, তা-ও স্পষ্ট নয়।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার সিগন্যালে স্কুটি নিয়ে দাঁড়িয়ে পিৎজ়া ডেলিভারি করা তরুণ। পেছনে পিৎজ়া রাখার বাক্স। এ সময় তার দেখা হয়ে যায় স্কুলের বান্ধবীর সঙ্গে। ওই বান্ধবী তাঁকে দেখেই হাসতে শুরু করেন। ক্যামেরাবন্দিও করেন তাকে। 

এরপর তরুণের বান্ধবীকে তাচ্ছিল্যের সুরে বলতে শোনা যায়, ‘এই হল আমার বন্ধু, যার সঙ্গে আজই দেখা হল। স্কুলে থাকাকালীন ও আমাদের অনেক অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও পাঠাত। এখন ওর বয়স ৩০ আর ও পিৎজ়া ডেলিভারি করছে।’ ভিডিও বাকিদেরও দেখাবেন বলে জানান তরুণী। 

তাঁর কথা শুনে লজ্জায় পড়ে যান ডেলিভারি বয় তরুণ। হাসতে থাকেন। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তরুণ ও তরুণীর তরফে জানানো হয়, পুরো বিষয়টিই সাজানো ছিল। যদিও তা মানতে রাজি নয়, নেটিজেনদের একাংশ।

ভাইরাল ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে ‘স্যাফরন চার্জার্স’ নামে এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেটি। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। পিৎজ়া ডেলিভারি করা তরুণের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বান্ধবীর নিন্দাতেও সরব হয়েছেন অনেকে।

একজন মন্তব্য করেছেন, কোনও কাজই ছোট নয়। সংসার চালাতে অনেককেই পিৎজ়া ডেলিভারি করতে হয়। তরুণকে এভাবে অপদস্থ না করলেও হতো। এতেই বান্ধবীর শিক্ষার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। 

আরেকজন লিখেছেন, ‘জীবন সব সময় আমাদের প্রস্তুত থাকার জন্য অপেক্ষা করে না। কখনও কখনও কাঁধে দায়িত্ব এসে পড়ে। স্বপ্ন থেমে যায়। তখন দায়িত্ব পালনের জন্য অনেক কিছু করতে হয়। সেটা নিয়ে মানুষকে ছোট করার কিছু নেই। তরুণই বাস্তব জীবনের নায়ক। 

‘বিদ্রুপের মুখে পড়েই বোধহয় তরুণী গিয়ে তরুণকে ধরেছেন এবং চাপ দিয়েছেন, বিষয়টি সাজানো বলে সকলকে জানাতে’, মন্তব্য করেছেন এক ব্যবহারকারী। খবর: আনন্দবাজার।