Image description
 

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতঝড় ও তুষারপাতে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির একাধিক অঙ্গরাজ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের কাছাকাছি ফ্রিসকো শহরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। ফ্রিসকো পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, একটি গাড়ির সঙ্গে দড়ি বেঁধে স্লেজে করে টানা হচ্ছিল দুই কিশোরীকে। গাড়িটি চালাচ্ছিল এক কিশোর। চলন্ত অবস্থায় স্লেজটি প্রথমে ফুটপাতের বেষ্টনিতে ধাক্কা খায়, পরে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়।

টেক্সাসের অস্টিন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লটে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র ঠান্ডায় হাইপোথার্মিয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের। স্যালাইন কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, তুষারপাতের মধ্যে একটি এটিভি (অল-টেরেইন ভেহিকল) নিয়ে সে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল।

পেনসিলভানিয়ার লিহাই কাউন্টিতে তুষার পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বয়স ৬০ থেকে ৮৪ বছরের মধ্যে। ওই কাউন্টির করোনার সতর্ক করেছেন, হৃদ্‌রোগ বা অন্য শারীরিক জটিলতা থাকলে তুষার পরিষ্কারের সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, শহরটিতে ঝড়ের কারণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে একটি পার্কিং লটে তুষার সরানোর সময় বিশেষায়িত যানটি পেছনে নেওয়ার সময় এক নারী চাপা পড়ে প্রাণ হারান।

এ ছাড়া টেনেসিতে তিনজন, লুইজিয়ানায় দুজন এবং কানসাসে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ৭ লাখের বেশি গ্রাহক
ঝড়ের প্রভাবে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭ লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেনেসি, মিসিসিপি, লুইজিয়ানা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্য।

দেশটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত ন্যাশভিল ইলেকট্রিক সার্ভিস জানিয়েছে, তারা সোমবার দুপুরের মধ্যেই কর্মীসংখ্যা দ্বিগুণ করবে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ লাইনওয়ার্কার বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্যুৎ না থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে যখন বাইরের পরিস্থিতি চরম। কাউকেই ভুলে যাওয়া হবে না, তবে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহকের কাছে দ্রুত বিদ্যুৎ পৌঁছানোই আমাদের অগ্রাধিকার।

বাতিল ২০ হাজারের বেশি ফ্লাইট
শীতঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবারই দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ৪ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ডালাস, বোস্টন ও নিউইয়র্ক সিটি থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল এমন ফ্লাইটগুলোতে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত ঝড়ের কারণে ২০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুধু রোববারই বাতিল হয় ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট, যা করোনা মহামারির পর একদিনে সর্বোচ্চ বাতিলের রেকর্ড।

শীর্ষনিউজ