যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কৌশলগত নথি অনুসারে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন চীন নয় বরং মার্কিন মাতৃভূমি এবং পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তাকে তার প্রাথমিক উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করছে।
এছাড়া নিরাপত্তা অগ্রাধিকারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সহায়তা দেয়া সীমিত করবে।
শুক্রবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল (এনডিএস) অতীতের পেন্টাগন নীতি থেকে সরে এসেছে।
নতুন কৌশলটি অনুসারে, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় মার্কিন মিত্রদের কাছ থেকে আরও বেশি ‘বোঝা ভাগাভাগি’ করার আহ্বান রয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু মার্কিন বাহিনী স্বদেশ প্রতিরক্ষা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মনোনিবেশ করছে, আমাদের মিত্র এবং অন্যান্য অংশীদাররা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব নেবে, যেখানে মার্কিন বাহিনীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সীমিত সমর্থন থাকবে।’
নতুন নথিতে বেইজিংয়ের সাথে ‘সম্মানজনক সম্পর্ক’ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং রাশিয়ার হুমকিকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি স্থায়ী, কিন্তু ‘সামলানো সম্ভব’ হিসেবে বলা হয়েছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরী জো বাইডেনের অধীনে প্রকাশিত পূর্ববর্তী এনডিএসে চীনকে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে পরিণতিমূলক চ্যালেঞ্জ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং রাশিয়াকে ‘তীব্র হুমকি’ হিসেবে দেখা হয়েছিল।
এতে মার্কিন মিত্র তাইওয়ানের কোনো উল্লেখ নেই, যাকে চীন তার অঞ্চল বলে দাবি করে। এনডিএস ল্যাটিন আমেরিকাকে মার্কিন এজেন্ডার শীর্ষে উন্নীত করে বলেও জানানো হয়।
নতুন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা হল জাতীয় নিরাপত্তা, এবং পেন্টাগন তাই আমাদের সীমান্ত সিল করার, আক্রমণের ধরণ প্রতিহত করার এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার করার প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেবে।’
এই কৌশলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিরোধের জন্য ‘আরও সীমিত’ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়া এই কাজের ‘প্রাথমিক দায়িত্ব নিতে সক্ষম।’
৩৪ পৃষ্ঠার নতুন এই প্রতিবেদনটি গত বছর মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশের পর প্রকাশিত হলো। যেখানে বলা হয়েছে যে ইউরোপ সভ্যতার পতনের মুখোমুখি এবং রাশিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেনি।
সূত্র: আল জাজিরা,