Image description
 

ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর সামা টিভির।

মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ইরানে ব্যাপক আকারে হামলা চালানো হলেও দেশটির বর্তমান সরকারের পতন ঘটার নিশ্চয়তা নেই। উল্টো এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে যে ছোট পরিসরের বা সীমিত হামলা হয়তো বিক্ষোভকারীদের মনোবল বাড়াতে পারে, কিন্তু তেহরানের কঠোর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে তা যথেষ্ট হবে না। 

অন্যদিকে, বড় কোনো অভিযানের ক্ষেত্রে ইরানি সামরিক বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং ইসরাইলসহ আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে থাকা মার্কিন শক্তির চেয়ে অনেক বেশি সমরাস্ত্র ও জনবল প্রয়োজন হবে।

 

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চললে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিণাম’ ভোগ করতে হবে বলে ওয়াশিংটন আগেই সতর্ক করেছে। 

যদিও সম্প্রতি খবর এসেছে যে ইরান ৮০০ জনের পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে, যা ট্রাম্প ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্পের এই নরম সুর রণকৌশলের অংশ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ এরই মধ্যে তিনি দক্ষিণ চীন সাগর থেকে বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'কে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পকে কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালানোর জন্য অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে কাতার ও ওমান মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। কারণ তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো, বিশেষ করে কাতারের আল-উদেদ বিমান ঘাঁটি তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এরই মধ্যে ওই ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।