Image description

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ব্রিটেন ইরানকে অস্থিতিশীল করে ওখানে একটা পুতুল সরকার বসাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন লেখক এবং দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে চ্যানেল 24 এর মুক্তবাক টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। আলতাফ পারভেজ বলেন, ভেনেজুয়েলায় পুতুল সরকার বসাতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অনেকটা করেছেও। ইরান এবং ভেনেজুয়েলার পরোক্ষলক্ষ্য চীন।

 

ইরান ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘বোমা দিয়ে বা সেনাবাহিনী দিয়ে একটি দেশের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যায় না। সোভেয়েত ইউনিয়নের কাছে ইউরোপ ও আমেরিকার শক্তিশালী সেনাবাহিনী পরাজিত হয়েছে, কিন্তু সে সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৯০ সালে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। একটি শাসন ব্যবস্থা যখন ভেতর থেকে ক্ষয়ে যায়, তাকে বোমা বা গার্ড দিয়ে রক্ষা করা যায় না।’

গষেক আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি ইরানের সমঝোতা হয়েও যায়, তাহলেও ইরানে একধরনের অস্থিরতা চলতে থাকবে এবং ইরানের এ শাসন ব্যবস্থা টিকবে না। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ব্রিটেন চাচ্ছে-ইরানকে অস্থিতিশীল করে ওখানে একটা পুতুল সরকার বসাতে। যেটা ভেনেজুয়েলায় করতে চাচ্ছে, অনেকটা করেছেও। এই দুটির পরোক্ষলক্ষ্য চীন।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের তিনটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হলো-ভেনেজুয়েলা, ইরান ও সৌদি আরব। সৌদি আরবে আমেরিকার একটা পুতুল সরকার রয়েছে। এখন ভেনেজুয়েলা এবং ইরানে যদি আরও দুটি পুতুল সরকার বসাতে পারে তাহলে বিশ্বের পুরো তেলের বাজারটা আমেরিকার হাতে থাকবে। বিপণন, উৎপাদন ও দাম তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। চীন হলো এসব তেলের প্রধান ভোক্তা। দেশটি বেশি তেল আমদানির করে ইরান এবং ভেনেজুয়েলা থেকে। এই দুটি দেশে পুতুল সরকার বসানো গেলে চীনে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো যাবে। এই দুই দেশে চীনের বিপুল ঋণ আছে, এখন এ ঋণগুলোও আটকে যাবে। চীনের বাণিজ্যিক প্রভাব অনেক কমে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প বলছেন চীনের পণ্যের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। এছাড়া সামরিকখাতে ৬০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। এ ব্যয়টা বাড়তি ট্যারিফ থেকে আয় করতে চান ট্রাম্প। অর্থাৎ যাদের সহায়তায় ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন, তাদেরকে এভাবে ঘুষ দিতে চান। ভেনেজুয়েলা এবং ইরান দুটিই ট্রাম্পের একই ধরনের প্রজেক্ট। এটি সারা বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা।’