Image description

ভারতজুড়ে যখন মুসলিম শাসকদের প্রতাপ বাড়ছিল, সেই মধ্যযুগে অল্প সময়ের জন্য ‘হিন্দু রাজ’ প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দেওয়া হয় একজনকে; যার নাম ছিল হিমু এবং তিনি ছিলেন ভারতের হরিয়ানার বাসিন্দা।

জীবনে মোট ২২টি যুদ্ধে বিজয়ী হন তিনি, যে কারণে অনেক ইতিহাসবিদ তাকে ‘মধ্যযুগের সমুদ্রগুপ্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ আবার তাকে ‘মধ্যযুগের নেপোলিয়ন’ বলেও উল্লেখ করেন।

হিমু যেমন ছিলেন দক্ষ যোদ্ধা, তেমনি ছিলেন বিচক্ষণ প্রশাসক। সহযোদ্ধা থেকে শুরু করে শত্রুপক্ষ—সবাই তার যুদ্ধদক্ষতা স্বীকার করতেন।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আর পি ত্রিপাঠী তার গ্রন্থ ‘রাইজ অ্যান্ড ফল অব দ্য মুঘল এম্পায়ার’-এ লিখেছেন, ‘আকবরের হাতে হিমুর পরাজয় ছিল দুর্ভাগ্যজনক। ভাগ্য যদি তার অনুকূলে থাকত, এই পরাজয় তাকে স্বীকার করতে হতো না।’

আরেক খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ আর সি মজুমদার শের শাহ-বিষয়ক বইয়ের একটি অধ্যায় ‘হিমু–আ ফরগটেন হিরো’ নামে লিখেছেন।

সেখানে লেখা হয়েছে, ‘পানিপথের যুদ্ধে একটি দুর্ঘটনার কারণে হিমুর নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে পরিণত হয়েছিল। তা না হলে দিল্লিতে মুঘলদের পরিবর্তে একটি হিন্দু রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হতেন তিনিই।’

 

সাধারণ এক পরিবারে জন্ম

হেম চন্দ্র ওরফে হিমু ১৫০১ সালে হরিয়ানার রিওয়ারি জেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের একটি মুদি দোকান ছিল।

আকবরের জীবনীকার আবুল ফজল তাকে অবহেলাভরে রিওয়ারির রাস্তায় লবণ বিক্রেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তার পেশা যা-ই হোক না কেন, শের শাহ সুরির ছেলে ইসলাম শাহের মনোযোগ আকর্ষণে সফল হয়েছিলেন তিনি।

শিগগির তিনি সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে উঠেন এবং প্রশাসনে তাকে সহায়তা করতে শুরু করেন। সম্রাট তাকে গোয়েন্দাপ্রধান ও ডাক বিভাগপ্রধানের পদ দেন।

পরে হিমুর মধ্যে সামরিক গুণাবলী দেখেন ইসলাম শাহ। এ বিষয়টি তাকে নিজ সেনাবাহিনীতে হিমুকে একটি পদ দিতে অনুপ্রাণিত করে। এ পদটি শের শাহ সুরির সময় ব্রহ্মজিৎ গৌরকে দেওয়া হয়েছিল।

আদিল শাহের শাসনকালে, হিমুকে ‘ভাকিল আলা’র (যার অর্থ প্রধানমন্ত্রী) মর্যাদা দেওয়া হয়।

দিল্লি দখল

আদিল শাহ যখন জানতে পারেন যে হুমায়ুন ফিরে এসেছেন এবং দিল্লির সিংহাসন দখল করেছেন, তখন তিনি মুঘলদের ভারত থেকে উৎখাত করার দায়িত্ব হিমুকে দেন।

হিমু ৫০ হাজার সৈন্য, এক হাজার হাতি এবং ৫১টি কামান নিয়ে দিল্লির দিকে অগ্রসর হন। কালপি ও আগ্রার গভর্নর আব্দুল্লাহ উজবেগ খান ও সিকান্দার খান আতঙ্কে তাদের নিজ নিজ শহর ছেড়ে যান।

কে কে ভরদ্বাজ তার বই ‘হিমু–নেপোলিয়ন অব ম্যাডইভাল ইন্ডিয়া’য় লিখেছেন, ‘হিমুকে বাধা দেওয়ার সব ব্যবস্থা নিয়েছিলেন দিল্লির মুঘল গভর্নর তার্দি খান। ১৫৫৬ সালের ৬ অক্টোবর হিমু দিল্লি পৌঁছান এবং তার সেনাবাহিনীসহ তুঘলকাবাদে শিবির গড়ে তোলেন।’

‘পরের দিন তার বাহিনী ও মুঘলদের বাহিনীর মধ্যে একটি যুদ্ধ হয়। এতে মুঘলরা পরাজিত হয় এবং তার্দি খান প্রাণ বাঁচাতে পালান পাঞ্জাবে। সেখানে ইতোমধ্যেই আকবরের সেনাবাহিনী অবস্থান করছিল।’

‘হিমু বিজয়ীর বেশে দিল্লিতে প্রবেশ করেন। রাজচ্ছত্র (অর্থাৎ মাথায় রাজকীয় ছাতা) নিয়ে হিন্দু রাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি খ্যাতিমান মহারাজা বিক্রমাদিত্য উপাধি গ্রহণ করেন, নিজের নামে মুদ্রা ছাপান এবং দূরবর্তী প্রদেশগুলোতে গভর্নর নিয়োগ করেন।’

তার্দি খানকে হত্যা করেন বৈরাম খাঁ

দিল্লিতে পরাজয়ের খবর ১৫৫৬ সালের ১৩ অক্টোবর আকবরের কাছে পৌঁছায়, তার ১৪তম জন্মদিনের ঠিক দুই দিন আগে।

সেই সময় আকবর ছিলেন পাঞ্জাবের জলন্ধরে বৈরাম খাঁর সঙ্গে। আকবরের কাছে কাবুল ছিল দিল্লির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবে বৈরাম খাঁ এতে একমত ছিলেন না।

আকবরের জীবনী ‘আকবর অব হিন্দুস্তান’-এ পার্বতী শর্মা লিখেছেন, ‘আকবরের সামনে বিকল্পগুলো স্পষ্ট ছিল। হয় তিনি ভারতের সম্রাট হবেন, অথবা শান্তিপূর্ণভাবে কাবুল ফিরে গিয়ে কেবল আঞ্চলিক রাজা হিসেবে থাকবেন।’

‘ঘটনাচক্রে, তার্দি খান যখন দিল্লি ত্যাগ করে আকবরের শিবিরে পৌঁছান, আকবর তখন শিকারের জন্য বাইরে ছিলেন। তার্দি খানকে শিবিরে আসার সমন জারি করেছিলেন বৈরাম খাঁ।’

‘কিছু কথোপকথনের পর, বৈরাম খাঁ মাগরিবের নামাজের জন্য ওজু করতে যান। এই সময়, বৈরাম খাঁর লোকেরা শিবিরে প্রবেশ করে তার্দি খানকে হত্যা করে।’

‘আকবর যখন শিকার থেকে ফিরে আসেন, তখন তাকে তার্দি খানের মৃত্যুর খবর দেন বৈরাম খাঁর দ্বিতীয় মুখপাত্র পীর মুহাম্মদ।’

‘বৈরাম খাঁ পীর মুহাম্মদের মাধ্যমে আকবরকে একটি বার্তা পাঠান। তাতে তার উদ্যোগকে আকবর সমর্থন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়। বার্তাটির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কী পরিণতি হতে পারে তা যেন অন্যরা শিখতে পারে।’

বিশাল বাহিনী নিয়ে পানিপথের দিকে এগোন হিমু

অন্যদিকে মুঘলরা পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এ খবর হিমু জানতে পারার পর তিনি আগেভাগেই তার কামানবাহিনী পানিপথের পথে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

আলী কুলি শাইবানির নেতৃত্বে বৈরাম খাঁও ১০ হাজার সেনা পানিপথে পাঠান। শাইবানি ছিলেন একজন উজবেক যোদ্ধা এবং সমকালীন ইতিহাসে খ্যাতিমান বলে বিবেচিত।

আবুল ফজল আকবরের জীবনী ‘আকবরনামা’-য় লিখেছেন, ‘হিমু খুব ভোরে দিল্লি ছেড়ে যান। দিল্লি থেকে পানিপথের দূরত্ব ছিল ১০০ কিলোমিটারেরও কম। ওই অঞ্চলে তখন প্রচণ্ড খরা; ফলে পথে মানুষের কোনো চিহ্নই পাওয়া যাচ্ছিল না।’

‘হিমুর বাহিনীতে ছিল ৩০ হাজার অভিজ্ঞ অশ্বারোহী এবং ৫০০ থেকে দেড় হাজারের মতো হাতি। হাতিগুলোর শুঁড়ে বেঁধে রাখা থাকত তলোয়ার ও বর্শা, আর তাদের পিঠে চড়ে থাকতেন যুদ্ধে দক্ষ ধনুকধারী সৈন্যরা।’

‘মুঘল সেনারা এর আগে কখনো যুদ্ধক্ষেত্রে এত লম্বা, বলিষ্ঠ হাতি দেখেনি। এসব হাতি পারস্যের যেকোনো ঘোড়ার চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারত এবং শত্রুপক্ষের ঘোড়াকে আরোহীসহ শুঁড় দিয়ে তুলে বাতাসে ছুড়ে ফেলতে সক্ষম ছিল।’

হিমু রাজপুত ও আফগানদের বিশাল সেনাবাহিনীসহ পানিপথে পৌঁছে যান।

জে এম শ্যালেট তার ‘আকবর’ গ্রন্থে লেখেন, ‘এই যুদ্ধে আকবরকে মূল লড়াইয়ের স্থান থেকে কিছুটা দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছিল। বৈরাম খাঁও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন এবং যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব তার বিশ্বস্ত সহচরদের দিয়েছিলেন।’

 

হিমুর বীরত্ব

হিমু যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেন মাথায় কোনো বর্ম না পরেই। বসেছিলেন ‘হাওয়াই’ নামের একটি পিঠে। আর নিজের সহযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতে ক্রমাগত চিৎকার করে উদ্দীপিত করছিলেন তিনি।

বদাউনি তার ‘মুনতাখাব আত-তারিখ’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘হিমুর আক্রমণের তীব্রতা এমন ছিল যে তিনি মুঘল বাহিনীর ডান-বাম দুই দিকেই আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি করেন। তবে মধ্য এশিয়ার অশ্বারোহীদের কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।’

‘তারা সামনে থেকে সরাসরি আক্রমণ না করে, পাশ দিক থেকে তির্যকভাবে আক্রমণ করেছিল। এতে হাতির পিঠে থাকা সৈন্যরা পড়ে যায় এবং দ্রুত দৌড়ানো ঘোড়ার খুরে পিষ্ট হয়।’

এই যুদ্ধের বর্ণনায় আবুল ফজল লিখেছেন, দুই সেনাবাহিনী যেন মেঘের গর্জন আর সিংহের মতো শব্দ করে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আলী কুলি শাইবানীর তীরন্দাজরা শত্রুর দিকে প্রচুর তীর ছুড়লেও যুদ্ধ তখনও তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ায়নি।

পার্বতী শর্মা লিখেছেন, ‘সম্ভবত তখন আকবরের মনে প্রশ্ন জাগছিল—কীভাবে তার দাদা বাবর প্রথম পানিপথের যুদ্ধে মাত্র ১০ হাজার সেনা নিয়ে ইব্রাহিম লোদির এক লাখ সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন?’

‘তবে আকবর এটাও জানতেন যে বাবরের হাতে ছিল একটি গোপন অস্ত্র—বারুদ। কিন্তু ৩০ বছর পর তার নিজের হাতে তেমন কোনো রহস্যময় অস্ত্র ছিল না।’

‘এই সময়ে সেনাদের মনোবল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে যুদ্ধ শুরুর আগে আকবর তার সেনাদের উজ্জীবিত করতে হিমুর একটি কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর নির্দেশ দেন।’

 

হিমুর চোখে বিঁধে যায় তীর

কিন্তু ঠিক সেই সময়ে মুঘল সেনাদের সমর্থন দিয়েছিল এক অদৃশ্য সৌভাগ্য। হিমু মুঘল বাহিনীর ডান ও বাম দুই দিকেই তীব্র বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিলেন।

আলী কুলি শাইবানীর সৈন্যরা হিমুর বাহিনীকে লক্ষ্য করে তীরের ঝড় বইয়ে সেই চাপ কমানোর চেষ্টা করছিল। তার নিক্ষিপ্ত তীরগুলোর একটি সঠিক লক্ষ্যে গিয়ে লাগে।

আবুল ফজল লিখেছেন, ‘হিমু কখনো ঘোড়ায় চড়তে শেখেননি—সম্ভবত এ কারণেই তিনি হাতির পিঠে যুদ্ধ করছিলেন। তবে হয়তো আরেকটি কারণ ছিল—সেনাপতি যদি হাতির ওপর থাকেন, দূর থেকে সমস্ত সেনাই তাকে দেখতে পায়। হিমুর দেহের উপরের অংশে কোনো বর্ম ছিল না।’

‘এটি সাহসী হলেও অবিবেচক একটি সিদ্ধান্ত ছিল। যুদ্ধ চলাকালে হঠাৎ ছুটে আসা একটি তীর হিমুর চোখ ভেদ করে মাথার খুলি পর্যন্ত গিয়ে গেঁথে বসে।’

জেএনইউ–এর সাবেক অধ্যাপক ও সুপরিচিত ইতিহাসবিদ হারবান্স মুখিয়া তার ‘দ্য মুঘলস অব ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে মুহাম্মদ কাসিম ফারিশ্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘এই ভয়াবহ ঘটনার পরও হিমু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। তিনি চোখের কোটর থেকে তীরটি টেনে বের করেন এবং রুমাল দিয়ে ক্ষত ঢেকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। ক্ষমতার প্রতি হিমুর তৃষ্ণা আকবরের চেয়ে কোনো অংশেই কম ছিল না।’

হিমুর শিরোচ্ছেদ করেন বৈরাম খাঁ

যদিও কিছুক্ষণ পরই হিমু অচেতন হয়ে হাতির শুঁড়ে পড়ে যান। এমন যুদ্ধে সেনাপতি আহত হলে সেনাদের লড়াইয়ের আগ্রহ কমে যায়।

ফলে আকবর ও বৈরাম খাঁ যখন যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছান, তখন তারা দেখেন—সেনারা যুদ্ধ না করে বিজয়োৎসব করছে।

নিজামুদ্দিন আহমেদ তার ‘তাবাকাত-ই-আকবরি’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘শাহ কুলি খান নামের একজন দেখলেন, একটি হাতি মাহুত ছাড়াই এদিক–ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি নিজের মাহুতকে ওই হাতির ওপর চড়তে পাঠালেন। যখন সেই মাহুত হাতির পিঠে চড়লেন, তিনি দেখলেন হাতির শুঁড়ে আহত এক মানুষ শুয়ে আছে।’

‘কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে বুঝলেন, আহত ব্যক্তিটি আর কেউ নন—হিমু। পুরো বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে কুলি খান তাকে হাতিতে চড়িয়ে সম্রাট আকবরের সামনে নিয়ে গেলেন। এর আগে তিনি শিকল দিয়ে হিমুকে বেঁধে ফেলেছিলেন।’

আবুল ফজল লিখেছেন, ‘২০ টিরও বেশি যুদ্ধে বিজয়ী সেই হিমুকে রক্তাক্ত অবস্থায় ১৪ বছরের আকবরের সামনে আনা হয়। তখন বৈরাম খাঁ সদ্য সম্রাট হওয়া আকবরকে নিজ হাতেই শত্রুকে হত্যা করতে বলেন। আহত হিমুকে সামনে দেখে আকবর স্পষ্টতই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।’

আকবর একটি অজুহাত দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাকে ইতোমধ্যেই টুকরো টুকরো করে ফেলেছি।’

চারপাশে দাঁড়ানো কিছু লোক বৈরাম খাঁর কথাকে সমর্থন জানিয়ে হিমুকে হত্যা করতে আকবরকে উসকানি দেয়। তবে এতে রাজি হননি তিনি।

ফারিশতা বিশ্বাস করেন যে আকবর কেবল আহত হিমুর ওপর নিজের তলোয়ার স্পর্শ করেছিলেন। কিন্তু ভিনসেন্ট এ স্মিথ এবং হারবান্স মুখিয়ার ধারণা, আকবর নিজেই হিমুর ওপর তলোয়ার চালিয়েছিলেন।

তবে সাধারণত মত হলো, বৈরাম খাঁ নিজের তলোয়ার দিয়ে হিমুর শিরশ্ছেদ করেছিলেন।

মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ

নিরোধ ভূষণ রয় তার ‘শের শাহস সাকসেসর’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘হিমু সবসময় হিন্দু ও মুসলিমদের নিজের দুই চোখের মতোই গুরুত্ব দিতেন। পানিপথের যুদ্ধে তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। তার বাহিনীর ডান দিকের ভাগের নেতৃত্বে ছিলেন শাদি খান কাকর, আর বাঁ পাশে নেতৃত্ব দেন রামইয়া। বলা হয়ে থাকে, তিনি যদি কয়েক বছর আরো বাঁচতেন, তবে হিন্দু শাসনের একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করতে পারতেন।’

ভিনসেন্ট এ স্মিথ আকবরের জীবনীতে লিখেছেন, ‘আকবর বিদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন। তার শিরায় ভারতের এক বিন্দু রক্তও ছিল না। বাবার দিক থেকে তিনি তৈমুরের সপ্তম প্রজন্মের বংশধর, মায়ের দিক থেকে পারস্যের।’

‘এর বিপরীতে, হিমু ছিলেন ভারতীয় বংশের এবং ভারতের সিংহাসন ও সার্বভৌমত্বের অধিকারের জন্য তার দাবিই ছিল বেশি।’

‘ক্ষত্রিয় বা রাজপুত না হলেও হিমু নিজ দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। এর চেয়ে মহৎ সমাপ্তি আর কী হতে পারে?’

‘একটি মুদি দোকান থেকে দিল্লির সিংহাসনে পৌঁছানো, অন্তত তখনকার সময়ে বেশ কৃতিত্বের ব্যাপার ছিল। যদি ভাগ্য বিজয়কে পরাজয়ে পরিণত না করত, ভারতের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা