ইরানে তীব্র হয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে বিক্ষোভকারীারা। পাশাপাশি একটি মসজিদেও আগুন দিয়েছে তারা। এসময় বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা যায় ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের পতাকা।
রুশ সংবাদমাধ্যম তাস এক প্রতিবেদনে জানায়, তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি বলেছেন, ‘একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ২৬টি ব্যাংক লুট করা হয়েছে, মসজিদে আগুন লাগানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্ট এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস মিলিশিয়ার সদর দপ্তর বাসিজে আক্রমণ করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে তিনি আরো বলেন, রাজধানীতে ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করার জন্য কাজ চলছে।
তিনি জানান, বিক্ষোভকারীরা ১০ সরকারি ভবন, ৪৮টি ফায়ার ট্রাক, ৪২টি বাস এবং অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি ২৪টি অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষতি করেছে।
গত ২৮ শে ডিসেম্বর ব্যবসায়ীরা ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে মধ্য তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই বিক্ষোভে যোগ দেয় সারাদেশের মানুষ।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে বিক্ষোভে অংশ না নিতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়। বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় বলা হয় আপনার সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে দেবেন না। সতর্কতা দিয়ে বলা হয়, যদি সেখানে গোলাগুলি হয় এবং আপনার সন্তানের কিছু হয় তাহলে অভিযোগ করবেন না।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানী তেহরানের এক চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকীকে জানান, তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ জনের লাশ এসেছে, যাদের ‘অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ’ হয়ে প্রাণ হারান।