Image description

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের সরকারি শাটডাউনের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে প্রায় ৪১৬ মাইল (প্রায় ৬৭০ কিলোমিটার) সড়কপথে ভ্রমণ করিয়ে নিউইয়র্কে নেয়া হয়েছিল। এর কারণ, বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদন এ সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, এই দীর্ঘ যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে জয়শঙ্করের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

মার্কিন ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস (ডিএসএস)-এর তৈরি এই প্রতিবেদনটি ৩০ ডিসেম্বর লেখা হয় এবং ৮ জানুয়ারি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। সরকারি শাটডাউনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সড়কপথে যাত্রার সিদ্ধান্ত নেন। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের লিউইস্টন-কুইনস্টন ব্রিজে জয়শঙ্করকে গ্রহণ করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এবং সেখান থেকে প্রায় সাত ঘণ্টার সড়কযাত্রা শুরু হয় ম্যানহাটানের উদ্দেশে।
এই নিরাপত্তা অভিযানে মোট ২৭ জন এজেন্ট অংশ নেন। তারা এসেছিলেন ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিসের ডিগনিটারি প্রোটেকশন ডিভিশন এবং নিউইয়র্ক ও বাফেলোর ফিল্ড অফিস থেকে। স্থানীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে কিছু এজেন্ট আলাদাভাবে গাড়ি চালিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এই নিরাপত্তা দলটি ভারতের জাতিসংঘ মিশন, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে।

জয়শঙ্করের গাড়িবহর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতকালীন আবহাওয়া ও দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগেভাগেই পরিকল্পনা করা হয় এবং যাত্রাপথে চালকদের পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করা হয়। তীব্র ঠাণ্ডা ও সীমিত দৃশ্যমানতার মধ্যেও গাড়িবহর যাত্রা অব্যাহত রাখে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে নিরাপত্তা দলের হস্তান্তরের সময় একটি শেরিফ দপ্তরের বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর জয়শঙ্করের সাঁজোয়া গাড়ির প্রতি সতর্ক সংকেত দেয়। সঙ্গে সঙ্গে এজেন্টরা এলাকা নিরাপদ করেন এবং স্থানীয় প্রযুক্তিবিদদের ডেকে পাঠানো হয়। পরিদর্শনের পর গাড়িটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে যাত্রা পুনরায় শুরু হয়।

নিউইয়র্ক সিটিতে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা দলের এক সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক নারীর মুখোমুখি হন, যিনি হিট-অ্যান্ড-রান দুর্ঘটনার শিকার ছিলেন। ওই এজেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সহায়তা করেন, অন্যরা শহরের পুলিশ ও ফায়ার বিভাগের সঙ্গে মিলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবাদানকারীদের পথ পরিষ্কার করেন। আহত নারী চিকিৎসাসেবা পান। তবে এই ঘটনা সফররত মন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ব্যাঘাত ঘটায়নি বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারি শাটডাউন সত্ত্বেও এই নিরাপত্তা অভিযান নিশ্চিত করেছে যে জাতিসংঘে নির্ধারিত বৈঠকটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত একটি সংস্থা, এর দায়িত্ব মার্কিন কূটনীতিক এবং সফররত বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।