পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সঙ্গে আলোচনায় বসার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিককে সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমানোর প্রচেষ্টায় এটাকে একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংসদীয় সূত্রের বরাতে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, স্পিকারের অনুরোধে সরকার পক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে। তবে কেবল পিটিআইয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে। অনির্বাচিত দলের নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।
খবরে আরও বলা হয়েছে, সরকারের প্রস্তুতি সত্ত্বেও কোনো পিটিআই নেতা এখনও আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেননি। বিরোধী পক্ষ যদি ইঙ্গিত দেয়, তাহলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার জন্য স্পিকার অবিলম্বে কমিটির একটি সভা আহ্বান করতে প্রস্তুত।
প্রতিবেদন মতে, স্পিকার এর আগেও আলোচনার জন্য পিটিআইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণের পরও বিরোধী পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। স্পিকার পিটিআইকে তার সংসদীয় কক্ষের মধ্যে আলোচনায় যোগদানের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান বলেন, পিটিআই কখনও আলোচনা বাতিল করেনি। তবে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে যদি আমাদের দেখা করতে দেওয়া না হয়, তাহলে আলোচনা কীভাবে এগোবে।
গহর আলি খান আরও বলেন, ‘আমরা প্রতি মঙ্গলবার আসি এবং পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে দেখা না করেই চলে যাই। এক মাসের বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেয়া হয়নি।’
পিটিআই মহাসচিব ব্যারিস্টার সালমান আকরাম রাজা বলেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংলাপ এগোতে পারে না। অন্যদিকে পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার আলি জাফর আলোচনার জন্য সরকারকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানান।
প্রায় দুই বছর ধরে তীব্র উত্তেজনার পর রাজনৈতিক উত্তাপ কমাতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে উভয় পক্ষ সংলাপ শুরু করে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পরও ২০২৩ সালের ৯ মে এবং ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বরের বিক্ষোভ তদন্তের জন্য দুটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন এবং পিটিআইর বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় সংলাপ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পরিষদের (এনএ) স্পিকার আয়াজ সাদিক উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলোচনার দরজা কখনও বন্ধ করা উচিৎ নয়। তার এই মন্তব্যের পরই শেহবাজ সরকার বিরোধী দল পিটিআইকে আবারও সংলাপের প্রস্তাব দেয়।
তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে একদিন পর পিটিআই তা প্রত্যাখ্যান করে। দলটির নেতা আসাদ কায়সার পাল্টা প্রশ্ন করেন, সরকার যখন দলের ওপর দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে, তখন তারা কীভাবে সরকারের সাথে সংলাপে বসতে পারে।
এরপর বছরের শেষ দিকে এসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ আবারও বিরোধী দলকে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে এর সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ কেবল ‘বৈধ বিষয়’ নিয়েই হতে পারে। জবাবে পিটিআই জানায়, তারা সরকারের সাথে আলোচনায় অংশ নেবে না।
দলের তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের নির্দেশ অনুসরণ করে এই অবস্থান নেয়া হয়েছে। এআরআই নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি মহাসচিব সালমান আকরাম রাজার সাথে দেখা করেছি এবং তিনি বলেছেন যে, ইমরান খান দলকে কোনওভাবেই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’