Image description

কালপরিক্রমায় ইতিহাসের পাতা থেকে বিদায় নিল ২০২৫। পূর্ব দিগন্তে নতুন সূর্যের আবাহন আর হৃদয়ে নতুন প্রত্যাশার রেণু ছড়িয়ে প্রকৃতিতে এল ২০২৬ সাল। বাংলাদেশে থার্টি ফার্স্ট নাইটের কুয়াশাচ্ছন্ন হিমেল রাতকে উষ্ণ করে তুলেছিল তারুণ্যের কলরব। ঢাকার নীল আকাশে ফানুসের মায়াবী ওড়াউড়ি আর আতশবাজির বর্ণিল বিচ্ছুরণ জানান দিচ্ছিল, আমরা প্রস্তুত আগামীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাকে আলিঙ্গন করতে। বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে রাজপথ, সর্বত্রই ছিল নতুনকে স্বাগত জানানোর এক অনন্য ব্যাকুলতা।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও ছিল উৎসবের জোয়ার। তবে এবারের আয়োজনকে ছাপিয়ে আলোচনায় ছিল দিল্লির হাড়কাঁপানো শীত। ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ২০২০ সালের পর শীতলতম 'থার্টি ফার্স্ট নাইট' দেখল দিল্লি। কিন্তু হিমাঙ্ক ছোঁয়া সেই শীতও দমাতে পারেনি মানুষের উচ্ছ্বাস। মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভ থেকে শুরু করে দিল্লির কনট প্লেসশ, সবখানেই ছিল জনসমুদ্র। অন্যদিকে শিমলা ও মানালির তুষারশুভ্র পাহাড়ে পর্যটকরা মেতেছিলেন শুভ্রতার উৎসবে।

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে নিউজিল্যান্ডের চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জেই প্রথম বেজে ওঠে নতুন বছরের জয়গান। অকল্যান্ডের ২৪০ মিটার উঁচু আইকনিক 'স্কাই টাওয়ার' যেন হয়ে উঠেছিল আলোর ফোয়ারা। প্রায় ৩,৫০০টি আতশবাজির ঝলকানিতে আকাশ যখন রঙিন হয়ে ওঠে, তখন হাজারো মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় শান্তির গান।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজ প্রতিবারের মতো এবারও ছিল বিশ্ববাসীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এবারের আয়োজনে বিনোদনের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল 'শান্তি' ও 'ঐক্য'। বন্ডি বিচে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার শিকারদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। এরপর হারবার ব্রিজের আলোকসজ্জায় ভেসে ওঠে শান্তির প্রতীক 'ঘুঘু', যা বিশ্ববাসীকে সম্প্রীতির পথে চলার আহ্বান জানায়।

আধুনিকতা আর প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলা দেখা গেছে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে।  জাপানিরা তাদের 'শোগাতসু' উৎসবে মন্দিরের ঘণ্টা ১০৮ বার বাজিয়ে অন্তরের সকল কালিমা দূর করার প্রার্থনা জানায়। পাইন ও বাঁশের সাজে তারা গৃহকোণকে সাজিয়ে তোলে নতুন শুরুর আশায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় 'সিনজং' বা ক্যালেন্ডারের নববর্ষ পালিত হলেও তাদের প্রাণ লুকিয়ে থাকে লুনার নিউ ইয়ার বা 'সেওলাল'-এর প্রতীক্ষায়। উত্তর কোরিয়াও তাদের নিজস্ব ধারায় সংযত কিন্তু গম্ভীর আয়োজনে বরণ করে নেয় ১লা জানুয়ারিকে।