
শেষ সম্বল গবাদি পশুদের বাঁচাতে নিজের জীবন ঝুঁকি নিয়ে মানুষগুলো গলাপানি পার করছে। ভয়াবহ বানের পানি তাদের ঘরবাড়ি, জমি—সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছে, গত প্রায় ৫০ বছরে এত ভারী বৃষ্টি কখনো দেখেনি তারা। শুধু কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি নয়, বরং এই ভয়াবহ বন্যার জন্য পাকিস্তান সরাসরি ভারতকে দায়ী করছে। ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে দুটি বাধ খোলার পর প্রবল পানিতে তলিয়ে গেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ।
একজন স্থানীয় জানান, “পানি শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে। আমার বাড়িঘর বানের পানিতে ভেসে গেছে। কোনরকম পরিবারকে বাঁচাতে পেরেছি। গ্রামের মানুষের গরু, ছাগল বাঁচানোর জন্য কোন সহযোগিতা পাইনি। এখানে ছোট বোটে কিছু গরু উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু অনেকে পশুগুলো বাঁচাতে নিজের জীবন ঝুঁকি নিয়েছেন।”
কাশ্মীরে ভারী বৃষ্টির কারণে ভারত সরকার বুধবার দুটি বাধ খুলে দেওয়ার পরই হুহু করে বেড়ে যায় বানের পানি, যা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে পাকিস্তান একাধিক নদীর পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বাঁধ বিস্ফোরণ করে। এতে ফুলে ফেঁপে ওঠে চেনাব, রাভি এবং সতুদ্র নদীর পানি। ইতিমধ্যেই অন্তত ২ লাখ মানুষ বাস্তবভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে অংশ নিচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিয়ালকোট শহর।
স্থানীয়রা জানান, “বন্যার পানি সব সীমা অতিক্রম করেছে, অনেকের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য পশুপাখি, ভেঙে গেছে বাড়িঘর। আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি, সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান করছি।” অনেকে অভিযোগ করেন, “সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে না, কেউ আমাদের খবর রাখছে না। শস্য হারিয়েছি, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র হারিয়েছি। এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
পাকিস্তানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে, যা বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে। জুন থেকে পাকিস্তানে বন্যায় অন্তত ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার জন্য পাকিস্তান সরকার ভারতের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—পানির জন্য কি পাকিস্তানকে লক্ষ্য করেছে ভারত? সম্প্রতি কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘিরে দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়েছিল, এরপর থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ আরও কিছু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরের বাসিন্দাদের বাড়িঘর, গাড়ি, দোকান এমনকি যোগাযোগের সেতু পর্যন্ত বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সয়সম্বল হারানো নিরীহ মানুষদের প্রশ্ন, কোথায় যাবে তারা? কারা তাদের আশ্রয় দেবে? এক স্থানীয় বলেন, “আমাদের একটি বাড়ি প্রয়োজন খানিক আশ্রয়ের জন্য। আমরা অন্যের বাড়িতে থাকতে চাই না। দুইদিন ধরে অন্যের বাড়িতে আছি, জানি না কতদিন থাকতে হবে। এরপর কোথায় যাব, সেই ঠিকানাও নেই। আমাদের বাস করার জন্য একটি তাবুও নেই, কয়েকটি কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”