
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ সেনা ছুটি শেষে আর ফিরে আসছেন না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক লাখ রিজার্ভ সেনা ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েও পুনরায় ব্যারাকে যোগ দেননি। বাইরে তাদের অপরাজয় ভাবমূর্তি বজায় থাকলেও, অভ্যন্তরে সেনাবাহিনীর অবস্থা এখন সদরঘাটের মতো অগোছালো। গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুদের আপত্তি ও আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দা সত্ত্বেও, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরাইল গাজা উপত্যকার পূর্ণ দখল নিতে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তবে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত রিজার্ভ সেনাদের উপর নির্ভর করে এটি আদৌ সফল হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক নেতানিয়াহুর অভিযানকে আত্মঘাতী হিসেবে অভিহিত করছেন।
আইডিএফ ২০,০০০ রিজার্ভ সেনার নিয়োগ চুক্তি নবায়ন করেছে এবং আরও ৬০,০০০ রিজার্ভ সেনাকেও সাত দিনের মধ্যে অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই অভিযানে অন্তত পাঁচ মাস সময় ও পাঁচ ডিভিশন সেনা প্রয়োজন। কিন্তু সক্রিয় সেনার সংখ্যা কম থাকায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রিজার্ভ সেনাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। টানা দুই বছর ধরে হামাস, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত থাকার কারণে সেনারা ক্লান্ত ও আহত, অনেকেই মানসিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সেনাদের ৪০ শতাংশই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ পাচ্ছেন না, মাত্র ১৩ শতাংশ এখনও উৎসাহ নিয়ে লড়াই চালাতে ইচ্ছুক। সেনাপ্রধান ইয়ার জামিলও সেনাদের ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রিজার্ভ সেনাদের মধ্যে অনেকে ছুটি শেষে পুনরায় ডেকে পাঠানো হলে আর ব্যারাকে যোগ দেন না। সব মিলিয়ে, অনিচ্ছুক ও ক্লান্ত রিজার্ভ সেনাদের ওপর নির্ভর করে নেতানিয়াহুর নতুন অভিযানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অযৌক্তিক ও আত্মঘাতী বলেই অভিহিত করছেন।