Image description

ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার ও তাদের মূল সংগঠন কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক গত ১১ বছরে কিছুটা শীতল হলেও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফল এবং বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল উভয় সংগঠনকে ফের কাছাকাছি আনছে বলে দাবি করা হয়েছে। 

ভারতের বিখ্যাত আরএসএস গবেষক দিলীপ দিওধর দেশটির ইংরেজি দৈনিক ইকোনমিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন। ইকোনমিক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরএসএস গবেষক দিলীপ দিওধরের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দিওধর এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করেছেন যার কয়েক দিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহারাষ্ট্রের নাগপুরে প্রথমবারের মতো সফর করেছেন।

 

গত রোববার নাগপুরে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের প্রধান মোহন ভগবত। এ বিষয়ে গবেষক দিলীপ দিওধর বলেছেন, ‘‘গত ১১ বছরে মূল সংগঠন আরএসএস ও বিজেপির মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে গিয়েছিলো। এই সময়ে বিজেপি নিজেদের মতো করে পথ চলেছে। কর্ণাটক ও উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাদের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছিলো।

ওই সময় আরএসএস-এর পরামর্শকে তেমন একটা আমলে নেয়নি বিজেপি। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর, যেখানে বিজেপি এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে ছিলো এবং বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তন সংগঠন দু’টিকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে।’’

গবেষক দিলীপ দিওধরের মতে, এসব নির্বাচনে (বিধানসভা ও লোকসভা) বিজেপির প্রচারণা থেকে নিজেদের দূরে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। তিনি বলেন, ‘‘আরএসএস নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তার কর্মীদের দলের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না দেওয়ার বিষয়ে কোনও নির্দেশনা ছিলো না। যদিও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনও কর্মী বা দলীয় কার্যনির্বাহী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে চাইলে তিনি তা নির্দ্বিধায় করতে পারতেন। সংঘ বিজেপিকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসেনি এবং এর প্রভাব বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে দেখা গেছে।’’

 

দিলীপ দিওধর বলেন, আরএসএস বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি নাখোশ ছিলো। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের কয়েক দিনের মধ্যেই আরএসএস প্রধান ‘‘ব্যক্তি পূজা’’ এবং একজন নেতার হাতে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

আরএসএসের এই গবেষক বলেছেন, দু’টি সংগঠনই তাদের নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্যকে পেছনে ফেলার চেষ্টা করছে। আর এতে বিশাল ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন। তিনি বলেন, সংঘ বিজেপি নেতৃত্বকে তার উদ্বেগের বিষয়ে অবহিত করেছিল যে, রাজপথের বিক্ষোভের মাধ্যমে বাংলাদেশে যেভাবে সরকার পরিবর্তন ঘটেছিলো, সেরকম কিছু ভারতেও ঘটতে পারে। বাংলাদেশে সরকার পতনের পর ভারতের অনেক বিরোধী নেতা বলেছিলেন, দেশেও একই রকমের ঘটনা দরকার। সংঘ ও বিজেপি উভয়ই জানে, বাইরের এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যারা ভারতের নিজস্ব বৈদেশিক নীতি থাকতে পারে, সেটা চায় না।’’ অনুবাদ: নিউজ২৪