Image description

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তি না হলে সামরিক সংঘর্ষ "প্রায় অনিবার্য" হয়ে উঠতে পারে।বুধবার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সভাপতিত্বে ইরান ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারো বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের “সুযোগের জানালা খুবই সংকীর্ণ”।

সময় কম, ঝুঁকি বাড়ছে
ইউরোপীয় শক্তিগুলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করার জন্য একটি নতুন কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার আগেই একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো।

তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তারা কোনো অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে পশ্চিমা বিশ্ব এতে আশ্বস্ত নয়।

 

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের হাতে মাত্র কয়েক মাস আছে। যদি নতুন চুক্তি না হয়, তাহলে সামরিক সংঘর্ষ প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠবে।"তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা বিশ্বাস করি এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। আমাদের লক্ষ্য একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী’ সমাধানে পৌঁছানো।"

 

২০১৫ সালের চুক্তির ধ্বংসাবশেষ
২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে ইরান স্বাক্ষরিত "জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন" (JCPOA) চুক্তি অনুযায়ী, তেহরান পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করেন।

এরপর থেকেই ইরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে শুরু করে, যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।


ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত আলোচনা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই "সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের" নীতি অনুসরণ করেছে। রবিবার ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে তবে তাকে "গুরুতর পরিণতি" ভোগ করতে হবে।

 

ইরানও এর পাল্টা জবাব দিয়েছে। "কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন হলে তেহরান তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে," বলেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি।

কূটনৈতিক সমাধান, নাকি সামরিক সংঘর্ষ?
আরাকচি নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, "আমরা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যেকোনো হুমকি, চাপ বা ভয়ভীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকব।"তিনি মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিকে "আগ্রাসী ও আন্তর্জাতিক নীতির লঙ্ঘন" বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, "আমরা কখনোই আমাদের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা জাতীয় স্বার্থের ওপর আঘাত সহ্য করব না।"

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, আর একবার আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়বে।

সূত্র:আল-জাজিরা