
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অমীমাংসিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিতে এবার হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে চীন। ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদী তিস্তার পানি সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে শক্তিধর দেশটি। এতে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিস্তা নদী বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী, যা উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জোর দিচ্ছে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়নে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। এর মধ্যে রয়েছে নদীর পানি সংরক্ষণ, বন্যার পূর্বাভাস, বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক বিষয়। সফরকালে চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আগামী ৫০ বছরের জন্য বাংলাদেশের পানির চাহিদা নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তিস্তা প্রকল্প, যেখানে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। চীনও এই প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যেগুলোর উৎস হিমালয় ও অন্যান্য পাহাড়ি অঞ্চল। এই নদীগুলো বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। বাংলাদেশের নদীগুলোর বেশিরভাগের ওপর ভারত একতরফা বাঁধ নির্মাণ করে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবায় ভারত তিস্তা নদীর উজানে একটি বাঁধ নির্মাণ করে, যার ফলে বাংলাদেশের অংশে পানির প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে যায়। বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট এরই পরিণতি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার দীর্ঘসূত্রিতার কারণ হিসেবে ভারতের চাপের কথাই বারবার উঠে এসেছে। তবে চীনের আগ্রহের ফলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ভারতীয় প্রভাবের কারণে এই পরিকল্পনায় অগ্রসর হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে চীনের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। চীনও বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ফলে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার খানিকটা চাপে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।