Image description

ইসরাইলের কট্টরপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের আল-আকসা মসজিদ পরিদর্শনকে ‘উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘আজ সকালে ফ্যাসিস্ট মন্ত্রী বেন-গভিরের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢোকার ঘটনা উসকানি ও বিপজ্জনক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়’।

হামাস অভিযোগ করে বলেছে, ‘যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সরকার আল-আকসা মসজিদকে ইহুদিকরণ এবং জেরুজালেমের বাস্তবতা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে’।

বিবৃতিতে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে হামাস। 

সংগঠনটি বলেছে, ‘আমাদের ফিলিস্তিনি জনগণ এবং বিদ্রোহী যুবকদের প্রতি আহ্বান, আপনারা সর্বত্র এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’।

এছাড়াও হামাস আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘আইনের এই ধারাবাহিক লঙ্ঘন বন্ধ করতে এবং আমাদের ফিলিস্তিনি জনগণ ও ইসলামি-খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নিন’।

উল্লেখ্য, ইসরাইলের কট্টরপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রচলিত আইন অমান্য করেই মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ চত্বর পরিদর্শন করেছেন।

ইসরাইলের আইন অনুযায়ী, ইহুদিদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থানে প্রবেশের অনুমতি নেই। তবে, বেন-গভিরের মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ইসরাইলি পুলিশ তাকে থামানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। 

যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পরই ইসরাইলি সরকারে ফিরে আসেন বেন-গভির। তার পর মঙ্গলবার জেরুজালেম ও আল-আকসা সফর করেন কট্টরপন্থি এই ইসরাইলি মন্ত্রী।

আল-আকসা মসজিদ চত্বরের আইনি ও ধর্মীয় মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু।

১৯৬৭ সালে নির্ধারিত ‘স্ট্যাটাস কু’ (স্থিতাবস্থা) অনুযায়ী, জর্দানের নিযুক্ত ইসলামিক ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষ এই স্থানটির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে এবং কেবল মুসলমানদেরই এখানে নামাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে। 

তা সত্ত্বেও ইসরাইলি পুলিশই মূলত আল-আকসা মসজিদ চত্বরটির প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যা এই অঞ্চলে নিয়মিত উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর থেকে চালানো ইসরাইলের লাগাতার বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশুও রয়েছে।

যা নিয়ে গত ১৮ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বর্বরতায় ১০৪২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন ২৫০০ জনের বেশি। সূত্র: আল-জাজিরা