ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। বিশ্ববিদ্যালয়টি শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রুডো তাদের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে ‘ডিস্টিংগুইশড ফেলো’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেল’-এর সদস্য হয়েছেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেল হলো সাবেক সরকারপ্রধানদের একটি ‘আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক’। তাদের অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি বিশ্বজুড়ে সুশাসনের উন্নয়নে ব্লাভাটনিক স্কুলের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
২০২৫ সালে পদত্যাগের আগে টানা ১০ বছর কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ট্রুডো।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রুডো বললেন, ‘আমি যখন এক দশক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, তখন বিশ্ব ভূরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত—উভয় ক্ষেত্রেই গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। এসব পরিবর্তন আমাদের বিশ্বকে মৌলিকভাবে নতুন রূপ দিয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ পর্যন্ত—বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলোর জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণ নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা নতুন করে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’
ট্রুডো বললেন, ‘সরকারগুলো কীভাবে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং সবার জন্য আরও আশাব্যঞ্জক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, অন্য নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সরকার ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত নতুন প্রজন্মের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’
ওয়ার্ল্ড লিডার্স সার্কেলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।
বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফেলো হিসেবে ট্রুডো শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেবেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের একত্র করবেন এবং সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজিভাষী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়।
গত সেপ্টেম্বরে ট্রুডো তার সাবেক চিফ অব স্টাফ কেটি টেলফোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে ‘হোপ অ্যান্ড হার্ড ওয়ার্ক’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা চিত্রনাট্যনির্ভর ও চিত্রনাট্যবহির্ভূত—দুই ধরনের কনটেন্টই তৈরি করবে।