পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে ‘ধীরে ধীরে মেরে ফেলা হচ্ছে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেমান খান। তাদের অভিযোগ, দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে ইমরানকে কঠোর পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ইমরান খানের ছেলে কাসিমের বয়স ২৭ বছর এবং সুলেমানের ২৯ বছর। ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান। দুর্নীতির মামলায় তার ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না দুই ছেলে। যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে গিয়ে তার মুক্তির দাবিতে প্রচারণা চালানোর অনুমতিও পাননি তারা।
সুলেমান বলেন, তাদের বাবাকে ছয় বাই আট ফুটের একটি ছোট কক্ষে একাকী রাখা হয়েছে। কয়েক মাস ধরে নতুন বই দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সদস্য কিংবা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পাচ্ছেন না তিনি। চোখের সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে চোখের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে তাকে অল্প সময়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
কাসিম অভিযোগ করেন, নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে বাবার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক চাপ কমে গেলে ইমরানের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
ইমরানের ছেলেদের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরোধের জেরেই তার প্রতি এমন আচরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান মুনিরকে পদাবনতি দিয়েছিলেন বলে তাদের দাবি।
তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের ভাষ্য, ইমরান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, খাবার, চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন।
জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ এর আগে ইমরানের দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চলতি মাসের শেষ দিকে মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে পদযাত্রার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান