কানাডার সাসকাচোয়ানে এক বাংলাদেশি নারীকে পাচার ও নিপীড়নের দায়ে দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুজনকেই ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগস্টে মানব পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন মাসুম ও হায়দার। সাসকাচোয়ানের গাল লেক, টিসডেল ও এলরোজের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ওই নারীকে কাজ করতে বাধ্য করে শোষণ করার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মাসুমকে একই সঙ্গে যৌন নিপীড়নের তিনটি ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এসব অপরাধ ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে ঘটে। আদালতে জানানো হয়, ওই নারী বাংলাদেশ থেকে ভিজিটর ভিসায় কানাডায় গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করেছিলেন। চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হায়দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে হায়দার তাকে সাসকাচোয়ানে নিয়ে গিয়ে গাল লেকে নিজের রেস্তোরাঁয় কাজ দেন।
এরপর তাকে টিসডেলে মাসুমের রেস্তোরাঁ এবং পরে এলরোজের আরেকটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে ওই নারী জানান, তিনি সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করলেও নামমাত্র বা কোনো পারিশ্রমিক পেতেন না। এক রেস্তোরাঁ থেকে আরেক রেস্তোরাঁয় তাকে নেওয়া হতো। তার ভাষায়, তার মনে হতো তিনি যেন ‘কোনো পণ্য’ এবং তাকে এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। মাসুমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতে ওই নারী জানিয়েছেন, এসব ঘটনা নিয়ে তিনি মুখ খুলতে পারেননি। যৌন নির্যাতনের জন্য সমাজে নারীদেরই দোষারোপ করা হয়— এমন ভয়ও কাজ করেছিল তার মধ্যে। পরে অন্যদের সহায়তায় তিনি ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসেন।
রায় ঘোষণার আগে বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ বলেছেন, এ ঘটনার কারণে ওই নারী আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার ভয় তৈরি হয়েছে। হায়দারের ক্ষেত্রে তার আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা ও শারীরিক অসুস্থতাকে সাজা কমানোর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা মানব পাচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সর্বনিম্ন সাজা।
তাকে ৫ হাজার ৮৮৫ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। ক্রাউন প্রসিকিউটররা বলেছেন, মামলাটি সাসকাচোয়ানে মানব পাচারের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ সীমান্ত পেরিয়ে কাউকে পাচার না করেও চাকরি, বাসস্থান, মজুরি ও অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে শ্রমে বাধ্য করাকে মানব পাচার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।