Image description

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ উচ্ছেদে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দিল্লির রেস কোর্স মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবস্থিত ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ উল্লেখ করে গত সোমবার এ নোটিশ দেয় ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। নোটিশে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছয় দিনের মধ্যে জায়গাটি খালি করতে বলা হয়েছে।

দ্য ট্রিবিউন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে রেস কোর্স মসজিদ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ চেয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে আবেদন করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর দাবি, ১৯৭৭ সাল থেকেই মসজিদটি সরকারি গেজেটে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত।

ওয়াইসি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের কারণে মসজিদটি ‘ব্যবহারের ভিত্তিতে ওয়াকফ’ হিসেবে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের আওতায় সুরক্ষিত। অতীতে ওয়াকফ হিসেবে নিবন্ধিত সম্পত্তিগুলো সংশোধিত আইনেও সুরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইসলামি আইন অনুযায়ী, ধর্মীয়, শিক্ষামূলক বা দাতব্য কাজের জন্য উৎসর্গ করা সম্পত্তিকে ওয়াকফ বলা হয়। ভারতে প্রতিটি রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ড রয়েছে। এসব বোর্ডের সম্পত্তি অধিগ্রহণ, সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় হস্তক্ষেপ চেয়ে সোমবার রিজিজুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে ইসলামি সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল।

সংগঠনটি এক স্মারকলিপিতে মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানায় তারা। মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্যও মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলকে রিজিজু আশ্বস্ত করেছেন যে বিষয়টি সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

দ্য ওয়্যার এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেস কোর্স রোড এলাকায় চলমান উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে মসজিদটিকে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকাতেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন অবস্থিত। অভিযানের আওতায় সেখানকার বস্তিবাসীদেরও উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

সূত্র: স্ক্রল