Image description

আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৩৯) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হোটেলের মালিক আতাউর রহমান পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজসংলগ্ন ‘ঢাকা আবাসিক হোটেল’-এর দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল বাশার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে।

তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর রাতে মৃত্যুর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে দুই হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। ফোনে তার স্ত্রী স্বামীর অবস্থান জানতে চান এবং সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চান। কিন্তু ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তার অবস্থান জানানো হয়নি। একপর্যায়ে ওই মোবাইল ফোন থেকে তার শুয়ে থাকা একটি ছবিও পাঠানো হয়। এ সময় টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।

এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও কেউ আর কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা গাজীপুরের স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের সূত্র ধরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ভাগিনা কবির হোসেন জানান, তার মামা গত ১৮ অক্টোবর (রবিবার) সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে পরিবারকে জানান। তবে সোমবার তার মামার মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন দুইবার চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন তার মামির কাছে।

কবির হোসেন বলেন, ‘টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’ পরে ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে তার মামার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন বলেন, ‘ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য একটি ক্রাইম সিন তদন্ত দল আসবে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে হোটেল মালিক পলাতক থাকার সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে।’