সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি তার পরিবার। মেয়ের মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা-মা।
সরকারি নথি অনুযায়ী, সুইটি আক্তারের জন্ম ২০০১ সালের ১১ আগস্ট। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এস রানা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার বহির্গমন ছাড়পত্র পান তিনি। সৌদি আরবে তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘আল মাজাল আল আরাবি গ্রুপ কোম্পানি’।
সুইটি আক্তারের মা জোহরা বলেছেন, ‘মেয়ের স্বামী আরেকটি বিয়ে করায় আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে মেয়ে আর সংসারে থাকতে চায়নি। আমার মেয়ে বলেছে, মা আমি আর বিয়ে করতে চাই না। মেয়েদের বিয়ে একটাই হয়। বিয়ের সাধ মিটে গেছে। এরপর সে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।’
জোহরা বললেন, ‘প্রথমদিকে মেয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ভালোই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে মাসখানেক আগে মেয়ের এক বান্ধবী ফোন করে জানায়, সুইটি এক বছর ধরে সৌদি আরবের জেলে রয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘আজ জানতে পারলাম, আমার মেয়েকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। মেয়ের এমন পরিণতিতে আমরা দিশেহারা। সরকারের কাছে আমার মেয়েকে বাঁচানোর আকুল আবেদন জানাই।’
মহেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর বলেন, ‘সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের খবরটি জানার পর আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও স্পর্শকাতর। সুইটির পরিবার যেন সঠিক তথ্য পায় এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চাই, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সুইটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা কিংবা তার সাজা পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।’
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন সিতি আখতার ও নাজেরুল ইসলাম আবদুল বশির। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই নারীর নাম সুইটি আক্তার এবং পুরুষের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।