ভারতে জেন-জি আন্দোলনে অংশগ্রহণের পর দিল্লি পুলিশের নজরদারি ও গাড়ি অনুসরণের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। পুলিশের কয়েকটি গাড়ি তাকে অনুসরণ করার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে মজার ছলে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন ব্লগার মাহমুদুল হাসান কায়রো। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।
মাহমুদুল হাসান কায়রো লিখেন, ধ্রুব রাঠি কিছুক্ষণ আগে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘ফ্রি জেনজি প্লাস নিরাপত্তা’। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ধ্রুব বাড়ি থেকে বের হলে তার আশপাশে ছদ্মবেশী পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করেন। সেদিন রাস্তায় বের হওয়ার পর তার সামনে-পেছনে বেশ কয়েকটি গাড়ি অনুসরণ করতে থাকে। ধ্রুব গাড়ির গতি বাড়ালে অনুসরণকারী গাড়িগুলোও গতি বাড়ায়। আবার তিনি গতি কমালে সেগুলোও গতি কমিয়ে দেয়। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর সামনের একটি পুলিশের গাড়ি গতি কমিয়ে রাস্তার পাশে সরে যায়। তখন ধ্রুব নিজের গাড়ি এগিয়ে নিয়ে ওই গাড়ির পাশে পৌঁছে ভিডিও করতে করতে পুলিশ কর্মকর্তাকে মজার ছলে বলেন, হায়, থামছো কেন? আসো, আসো…।
কায়রো আরও লিখেন, এভাবে আরও কয়েকটি পুলিশের গাড়ির সঙ্গে মজার ছলে কথোপকথনে জড়ান ধ্রুব। বিষয়টিকে নিছক হাস্যরসের ঘটনা হিসেবে না দেখে তিনি এটিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেন। শুনতে সহজ ও হাসির মনে হলেও বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন।
এদিকে বিবিসি হিন্দি ধ্রুব রাঠির আরেকটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন মাহমুদুল হাসান কায়রো। সেখানে ধ্রুবকে প্রশ্ন করা হয়, প্রতিবাদে অংশ নিতে তিনি ভারতে একবারই এসেছেন, নাকি ভবিষ্যতেও আসবেন। জবাবে ধ্রুব বলেন, প্রথমে তিনি এক দিনের প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেই ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু সেখানে আসার পর তার ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তাতে তাঁর মনে হয়েছে, তাকে বারবার ভারতে আসতে হবে।