Image description

সৌদি আরবের রাজধানীর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় মোট সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ২৫৩২ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের অনেকেই ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানেনই না। আবার অনেকে ভারত হয়ে সৌদি আরবের জেদ্দা, দাম্মাম হয়ে রিয়াদে যাচ্ছেন।

 

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুক্তভোগী প্রবাসী যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে রিয়াদে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে এসেছেন শহিদুল ইসলাল। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিমানবন্দর আসার পর কর্তৃপক্ষ বলতেছে ফ্লাইট বন্ধ। কখন ফ্লাইট চালু হবে, ওই রকম কিছু এখন পর্যন্ত কেউ বলেনি।’

 

তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি অনেক দূর। বাড়িতে যেতেও পারছি না। আবার থাকতেও পারছি না। নানান সমস্যার মধ্যে পড়ে গেলাম। একটা অনিশ্চয়তার ভেতরে পরে গেলাম। এখন আমার কোম্পানিকে জানাতে হবে। তারপর তারা কি বলে, পরে চাকরির বিষয়ে বুঝা যাবে।’

 

বিমানবন্দরে আরেক সৌদি প্রবাসী মনোয়ারুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি তো কিছুই জানিও না। আগে বাংলাদেশ বিমানে সৌদি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন ভারত গিয়ে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে সৌদির জেদ্দা বিমানবন্দরে যেতে হবে। তারপর আবার সেখান থেকে গাড়িতে করে রিয়াদে যেতে হবে।’

 

ঢাকার নবাবগঞ্জের সৌদি প্রবাসী ইসলাম শিকদার। রিয়াদে তিনি আট বছর ধরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘শনিবার (১০ অক্টোবর) আমার রিয়াদের ফ্লাইট ছিল। বিমানবন্দরে এসে জানতে পারি ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে। বিমানবন্দরের ভেতরে যোগাযোগ করার পর তারাই শিডিউল পরিবর্তন করে দিয়েছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘কাল চলে গিয়ে ফের আজ আসছি। যেখানে আমার সরাসরি রিয়াদের ফ্লাইট ছিল। কিন্তু এখন ফ্লাইট দাম্মামে। সেখান থেকে আবার গাড়িতে করে রিয়াদে যেতে হবে।’

 

ভোগান্তির বিষয়ে শিকদার বলেন, ‘বিমানবন্দরে এসে ফের ঘুরে বাড়ি গিয়ে পুনরায় আসার কারণে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আবার সৌদিতে গিয়েও জার্জির ভোগান্তি তো রয়েছেই।’

 

 

জীবনের প্রথম প্রবাসে গিয়ে পরিশ্রম করে সফলতার উদ্দেশে বিমানবন্দরে এসে সমস্যায় পড়েন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা এলাকার বাসিন্দা পবিত্র চন্দ্র ইসলাম। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বাড়ি থেকে সৌদি যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসেছি। কিন্তু আসার পর জানতে পারলাম ফ্লাইট বাতিল। কিন্তু কখন ফ্লাইট সেটি জানতে পারিনি। এখন বাড়ি চলে যাবো নাকি হোটেলে থাকব, সেটিও বুঝতেছি না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে কী হয়েছে, কী কারণে রিয়াদের ফ্লাইট বন্ধ, কিছুই জানি না। আজ আমার ফ্লাইট। কিন্তু মোবাইলে আমাকে বলছে সন্ধ্যা ৭টায় ফ্লাইট। আমি আগেভাগেই চলে এসেছি। কারণ কে না কে ফোন দিয়েছে, সেটি তো আর জানি না। আবার বিমানবন্দরে আসার পরও ফ্লাইট হবে কি না, সেটিও নিশ্চিত হতে পারছি না। কী করব বুঝতেছি না।’

 

 

 

রিয়াদের ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনা (এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব বলেন, ‘রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে এ পর্যন্ত (আজ দুপুর) সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ২ হাজার ৫৩২ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলো কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিষয়টি অবহিত করছে। সম্মানিত যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হলো।’

 

স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব বলেন, ‘এটি একটি বৈশ্বিক সংকট; তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ও সহমর্মীতার সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হলো।’

 

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশি নিহত ও অন্তত ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।