সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। শনিবারের ওই হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত বিবৃতিতে আল-মালিকি বলেছেন, ‘কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
সৌদি জোটের বিবৃতি। ছবি : সংগৃহীত
তিনি আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও প্রচলিত নিয়ম মেনেই এ হামলার জবাব দেবে জোটের যৌথ বাহিনী।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া বাংলাদেশ, ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের নাগরিক রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের হিসাবে, ২৪ ঘণ্টায় বিমানবন্দরটির অন্তত ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
রিয়াদে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দাম্মামে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল পড়ার কথা জানিয়েছেন আল-মালিকি। পরে তিনি জানান, দেশটির পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
আলাদা ঘটনায় আল-খারজ এলাকায় হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবিও করেছে জোট।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান চলাচল লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটল। জোটের দাবি, হুতিরা ইয়েমেনের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রিয়াদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবে যা ঘটেছে তা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র : আরব নিউজ