Image description

দুবাই থেকে ‍যাত্রী নিয়ে ইসরায়েলগামী বিমানের ককপিটে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা! কোনো সন্ত্রাসী বা বহিরাগত নয়; পাইলটের ওপর কুড়াল নিয়ে হামলে পড়ল ককপিটেরই আরেক পাইলট। তবে শেষপর্যন্ত বড় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটিয়ে গুরুতর আহত হয়েও বিমানকে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন ভারতীয় সেই পাইলট। এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশাসন। খবর রয়টার্সের

শনিবার (৩ অক্টোবর) আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি জানান, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের কো-পাইলট উড্ডয়নের সময় ককপিটে পাইলটকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কো-পাইলটের নাম হাম্মাম আল-হাম্মামি। তিনি ওমানের নাগরিক। তবে আমিরাতি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করেনি। ওমানও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফ্লাইদুবাইও এ ঘটনায় আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র শনিবার বলেন, ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।

গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইটটিতে থাকা যাত্রী ও ক্রুরা কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কো-পাইলট পাইলটের ওপর হামলা করে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমানটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলের নাগরিক।

ঘটনার পর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন ফ্লাইটে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের একজন রিজার্ভ পাইলট। তিনি বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। সেখানে সৌদি কর্তৃপক্ষ কো-পাইলটকে আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার তাকে সৌদি আরব থেকে আবুধাবিতে নেওয়া হয়।

ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঘটনার পেছনে কো-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বস্তুগত ও ডিজিটাল আলামতও পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

ফ্লাইদুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাইথ আল গাইথ শুক্রবার প্রথমবারের মতো এ ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। তিনি জানান, ককপিটে একটি নিরাপত্তাজনিত ঘটনার পর ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।

ইউএইর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মাচ্চহার সুস্থ অবস্থায় ইউএইতে ফিরেছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রশংসাও করেছে সংস্থাটি।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ইউএইর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দুবাই থেকে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে একটি নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ঘটনায় বিমানের কয়েকজন ক্রু আহত হন।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে প্রায় ১৬ হাজার ৬২৫ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনাটি যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, কো-পাইলট ওমানের নাগরিক। পরে ইসরায়েলি তদন্তকারীরা আমিরাতি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্তে অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়। তদন্তে কী ঘটেছিল, কো-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেন, কো-পাইলট কারও নির্দেশে কাজ করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইসরায়েল। তবে তার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এর আগে নেতানিয়াহু কো-পাইলটের মধ্যে উগ্র ইসলামপন্থি মতাদর্শের প্রভাব থাকার দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।