মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
জোটটির সাধারণ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন নোমান মাহমুদ। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এই সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রথম মহাসচিব হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ, হিলাল-ই-ইমতিয়াজ (মিলিটারি)-কে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানাতে পেরে পাকিস্তান সরকার আনন্দিত।’
নোমান মাহমুদ এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান তিনি। ২০২৩ সালে অবসর নেন।
তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এখন মক্কা প্রতিরক্ষা জোট নামে পরিচিত। গত ৭ আগস্ট মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পরে চুক্তিটির নাম পরিবর্তন করে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ রাখা হয়। চুক্তির আওতায় একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
গত মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এই কমিটির উদ্বোধনী বৈঠক হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির।
সৌদি আরবের পক্ষে বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। তুরস্কের পক্ষে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং তুর্কি জেনারেল স্টাফের প্রধান সেলচুক বায়রাকতারোগলু।
তিন দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। এর লক্ষ্য পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং তিন মিত্র দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
জোটটির পরিধি ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন, ‘পরবর্তী ধাপে’ মিশর এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে।
আনাদোলুকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, মিশরের যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল ‘কিছু কারিগরি বিষয়’ বাধা হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।
সূত্র: জিও নিউজ, সৌদি গেজেট