অনলাইন অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে দুই স্তরের নিরাপত্তা বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) এখন বেশ পরিচিত পদ্ধতি। এতে পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে গেলেও দ্বিতীয় একটি যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্টে ঢোকা যায় না। তবে ২এফএর কোড কোথায় রাখা উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ভেতরে রাখা ভালো, নাকি আলাদা অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত?
দুই পদ্ধতিরই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে আপনি কতটা সুবিধা চান, একাধিক ডিভাইস কীভাবে ব্যবহার করেন এবং অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকি নিয়ে আপনার উদ্বেগ কতটা।
পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে ২এফএ রাখার সুবিধা
বর্তমানের অনেক পাসওয়ার্ড ম্যানেজারেই ২এফএ কোড তৈরির সুবিধা রয়েছে। ১পাসওয়ার্ড ও বিটওয়ার্ডেনের মতো সেবায় পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ৬ সংখ্যার সময়ভিত্তিক একবার ব্যবহারযোগ্য কোড তৈরি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করা যায়।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রতিবার ফোন দেখে কোড লিখতে হয় না। পাসওয়ার্ডের সঙ্গে ২এফএ কোডও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করা যায়। যারা একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাদের জন্যও এটি সুবিধাজনক। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সাধারণত ডেস্কটপ, ব্রাউজার ও মোবাইল অ্যাপের মধ্যে তথ্য সমন্বয় করে। ফলে একটি ডিভাইস হাতের কাছে না থাকলেও অন্য ডিভাইস থেকে কোড পাওয়া যায়।
ফোন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের এনক্রিপ্টেড ভল্টে ২এফএ তথ্য সংরক্ষিত থাকায় সহজে আবার ব্যবহার করা যায়। পরিবার বা দলের সঙ্গে অ্যাকাউন্টের তথ্য শেয়ার করার প্রয়োজন হলেও একই জায়গা থেকে ব্যবস্থাপনা করা তুলনামূলক সহজ।
একই জায়গায় রাখার ঝুঁকি
তবে পাসওয়ার্ড ও ২এফএ কোড একই জায়গায় রাখার ঝুঁকিও রয়েছে। ২এফএর মূল উদ্দেশ্য হলো পাসওয়ার্ড ও দ্বিতীয় যাচাইয়ের তথ্যকে আলাদা রাখা। কিন্তু দুটোই যদি একই ভল্টে থাকে, তাহলে মাস্টার পাসওয়ার্ড কোনোভাবে হাতছাড়া হলে একসঙ্গে সব তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ ছাড়া ফোন বা কম্পিউটারে ক্ষতিকর সফটওয়্যার, কী-লগার বা ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশন থাকলে পাসওয়ার্ড ও ২এফএ কোড দুটিই একসঙ্গে হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। আলাদা ডিভাইসে অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়।
আলাদা অথেনটিকেটর অ্যাপের সুবিধা
গুগল অথেনটিকেটরের মতো আলাদা অথেনটিকেটর অ্যাপ ২এফএ কোডকে পাসওয়ার্ড থেকে আলাদা রাখে। এসব অ্যাপ সাধারণত অফলাইনে কাজ করতে পারে। ফলে পাসওয়ার্ড যেখানে সংরক্ষিত আছে, ২এফএ কোড থাকে অন্য জায়গায়।
এতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ভল্টে কোনো সমস্যা হলেও দ্বিতীয় স্তরের যাচাই আলাদা জায়গায় থাকার কারণে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়।
তবে এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। সাধারণত ছয় সংখ্যার কোড দেখে নিজে টাইপ করতে হয়। বেশিরভাগ অথেনটিকেটর অ্যাপ মোবাইলনির্ভর হওয়ায় ফোন হাতের কাছে না থাকলে সমস্যা হতে পারে। আবার ফোন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে নতুন ডিভাইসে কোড ফিরিয়ে আনার আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সমস্যা হতে পারে।
দুই পদ্ধতি মিলিয়ে ব্যবহার করা যায়
সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে দুই ধরনের ব্যবস্থাই একসঙ্গে ব্যবহার করা। প্রতিদিনের সাধারণ ও কম গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ভেতরেই ২এফএ কোড রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, মূল ই-মেইল, ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ২এফএ আলাদা অথেনটিকেটর অ্যাপ বা হার্ডওয়্যার নিরাপত্তা চাবিতে রাখা যেতে পারে।
এভাবে সাধারণ অ্যাকাউন্টে দ্রুত লগইনের সুবিধা পাওয়া যায়, আবার পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কোনোভাবে আক্রান্ত হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোতে দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তা আলাদা থাকে।
শেষ পর্যন্ত পাসওয়ার্ড ম্যানেজার বা আলাদা অথেনটিকেটর অ্যাপ, কোনোটিই সব পরিস্থিতিতে নিখুঁত নয়। আপনি কতটা সুবিধা চান এবং কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করছেন, তার ওপর পদ্ধতি নির্ভর করে। অনেক ব্যবহারকারীর জন্য দুই পদ্ধতির সমন্বয় করে ব্যবহার করাই সুবিধা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।