Image description

এসআইআর বা ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়ে নিয়ে ভারত জুড়ে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরেই মতপার্থক্যের তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।

 

এরপরই ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন। এছাড়া কমিশনের বিরুদ্ধে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ময়দানে নেমেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

 

ভোট চুরি নিয়েই নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বুধবার কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'ভোট চুরি ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং আমাদের সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন—যারা এর আয়োজন করেছে তারা দেশদ্রোহিতামূলক কাজ করেছে। এর বিচার হবেই।'

 

বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বলেন, 'কেবলমাত্র জোর করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে হারানোর জন্য বিধানসভা নির্বাচনের ৭- ৮ মাস আগে থেকে এসআইআর (ভোটার তালিকায় সংশোধন) প্রক্রিয়া শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। এই প্রক্রিয়ায় কেবলমাত্র বাংলা থেকেই ৯২ লাখ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এরপর ইভিএম হাইজ্যাক করেছে, আলিপুরে ইভিএম-এ অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। তাই আমাদের দাবি,জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল প্রসিডিং নিতে হবে এবং তার সাথে সরকারের যারা মদদ দাতা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে হবে।'

 

কেবলমাত্র বিজেপিকে ইগোকে সন্তুষ্ট করার জন্য, জ্ঞানেশ কুমার নিজের পরিবারকে সমস্ত কিছু পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই কাজ করেছে বলেও মমতার দাবি।

 

এসআইআর'কে 'স্পেশাল ইনটেন্সিভ রুলিং-পার্টি' বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, 'বিজেপি এবং জ্ঞানেশ কুমার মিলে আজ দেশে জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি তৈরি হয়েছে। এর সাথে রয়েছে সীমা খান্না। এরা যৌথভাবে বাংলার নির্বাচনকে লুট করেছে। বাংলার পাশাপাশি বিহার, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানাতেও জোর করে নির্বাচন জিতেছে। এ কথা আমরা বারবার বলেছি- আজকে সেটা প্রমাণিত হয়ে গেছে।'

 

এসময় মমতার দাবি, 'যদি এতটুকু নৈতিকতা থাকে, তবে আমাদের নির্বাচন ফিরিয়ে দিন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে মানুষগুলোর নাম বাদ গেছে সমস্ত পুরনো তালিকা ফিরিয়ে দিতে হবে এবং যে যে রাজ্যে এসআইআর'এর নাম করে ইভিএম লুট করে, হাইজ্যাক করে ওই রাজ্যগুলিতে জিতেছে সেখানে পুরনো ভোটার তালিকা এনে নতুন করে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।'

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার'কে গ্রেফতারের দাবিতে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়ে মমতা ব্যানার্জি বলেন, 'আপনারা রাস্তা নামলে আমি আপনাদের সাথে থাকবো। আমাকে মারুক, ধরুক, অত্যাচার করুক। আমি এসবে ভয় পাই না।

 

 

এদিকে কংগ্রেস, তৃণমূল সহ বিরোধী দলগুলোর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেন, '২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তারা এখন নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছে। আসলে জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীরা এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।'

 

সম্বিত পাত্রের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতবিনিময় ও ভিন্নমত প্রকাশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। তাঁর দাবি, কমিশনারদের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলে বিরোধীরাই আবার কমিশনকে ‘স্বৈরাচারী’ বা সরকারের ‘হ্যাঁ-মানুষ’-এর প্রতিষ্ঠান বলে অভিযোগ করত।